শাহের ‘আম্বেদকরকে নিয়ে ফ্যাশন’ মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক


দিন দর্পণ, নয়াদিল্লিঃ বুধবার রাজ্যসভায় বিআর আম্বেদকরকে নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ যে মন্তব্য করেছেন।সেই মন্তব্যের কড়া নিন্দা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।তাঁর কথায়, বিজেপির মুখোশ খুলে গেছে।আম্বেদকর নিয়ে যে মন্তব্য করা হয়েছে তা অত্যন্ত অপমানজনক।এই ইস্যুতে তাঁর বিরুদ্ধে স্বাধিকার ভঙ্গের নোটিস আনছে তৃণমূল বলে জানিয়েছেন সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন।সংবিধান নিয়ে রাজ্যসভায় আলোচনা চলছিল।সেই সময়ই অমিত শাহ বিরোধীদের খোঁচা দিতে গিয়ে মন্তব্য করেন,এখন একটা ফ্যাশন হয়েছে বারবার আম্বেদকর আম্বেদকর নাম নেওয়া।কিন্তু আম্বেদকরের প্রতি আপনাদের কী অনুভূতি এতবার ভগবানের নাম নিলে স্বর্গবাস হয়ে যেত।

তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অমিত শাহর মন্তব্যের নিন্দা করে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়ার এক্স হ্যান্ডলে।তাঁর স্পষ্ট কথা, সংবিধানের ৭৫ বছর পূর্তিতে বাবা সাহেব আম্বেদকর নিয়ে যে মন্তব্য করা হয়েছে তা অপমানজনক।অমিত শাহ আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন তাও আবার গণতন্ত্রের মন্দিরের মধ্যে বসেই।তাঁর এই মন্তব্য শুধু আম্বেদকরকেই নয়, তাঁকে যাঁরা মেনে চলেন, তাঁর ভাবধারায় যাঁরা চালিত হন, তাঁদেরকেও অপমান করেছে।তৃণমূল থেকে আগেই অভিযোগ করা হয়েছে বিজেপি জাতপাত নিয়ে রাজনীতি করে।সেই নিয়েই কটাক্ষ করে তৃণমূল বলে, শাহের এই ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় বিজেপির দলিত বিরোধী মানসিকতা।২৪০ আসন পেয়েই যদি এই আচরণ হয়, তাহলে ৪০০ আসনের স্বপ্ন পূরণ হলে কী অবস্থা হবে সেটা ভাবা উচিত।

অমিত শাহের এই মন্তব্যের পরই তীব্র হট্টোগোল শুরু হয় রাজ্যসভায়।তাঁকে ক্ষমা চাইতে হবে বলে দাবি তোলা হয়। বিআর অম্বেদকরকে নিয়ে শাহের ‘ফ্যাশন’মন্তব্যের বিরোধিতায় সরব কংগ্রেস।বুধবার সংসদের দুই কক্ষেই এই নিয়ে হট্টগোল শুরু করেন কংগ্রেস সাংসদেরা।তাঁদের তরফ থেকে মুলতুবি প্রস্তাবও আনা হয়।দাবি, অবিলম্বে শাহকে তাঁর মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইতে হবে।এই হট্টগোলের কারণে রাজ্যসভা এবং লোকসভার অধিবেশন দুপুর ২টো পর্যন্ত স্থগিতও হয়ে যায়।

আজকের এই সংসদ মুলতুবি করা হলে সংসদের বাইরে কংগ্রেস সাংসদেরা অম্বেডকরের ছবি হাতে বিক্ষোভ দেখান।‘জয় ভীম’স্লোগান তোলেন তাঁরা, যাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায় সংসদ চত্বরে।রাজ্যসভার সাংসদ তথা কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়গে অভিযোগ করেন, শাহ সংবিধানের জনক অম্বেদকরকে অপমান করেছেন।শাহকে সে জন্য ক্ষমা চাইতে হবে।একই সঙ্গে শাহের পদত্যাগের দাবিও তুললেন খড়গে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *