দিন দর্পণ, নয়াদিল্লিঃ সংসদে প্রথমবারের মতো ভাষণ দিলেন সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধি।নেহুরু-গান্ধি পরিবারের চতুর্থ প্রজন্মের প্রতিনিধি প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরা।দাদা রাহুল গান্ধী ও দলীয় স্ট্র্যাটেজি অনুসারে কেরলের ওয়ানাড় কেন্দ্রের লোকসভা সদস্য প্রিয়ঙ্কা তাঁর ভাষণে জাতিভিত্তিক জনগণনার উপরেই জোর দেন এদিন।ভারতের সংবিধান গ্রহণের ৭৫তম বার্ষিকীর উপর আলোচনায় কংগ্রেসের বক্তা ছিলেন প্রিয়ঙ্কা।মা হিসাবে সেই গর্বের মুহূর্তের সাক্ষী থাকলেন সোনিয়া গান্ধী।প্রিয়ঙ্কার প্রথম লোকসভা বক্তব্য শুনতে এদিন হাজির ছিলেন তাঁর স্বামী রবার্ট বঢরা ও তাঁদের ছেলে।বোনের দৃপ্ত কণ্ঠে ভাষণ শুনে উচ্ছ্বসিত দাদা রাহুল গান্ধীও।সবমিলিয়ে, সংসদে প্রথম ভাষণে একগুচ্ছ স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার পেলেন ওয়ানড়ের সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী।
কংগ্রেস নেত্রী এই দিন শুরু থেকেই কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করেন।গৌতম আদানি, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অতিসক্রিয়তা থেকে শুরু করে নির্বাচনী প্রচারে সংবিধান বদলের হুমকি সমস্ত ইস্যুতেই মোদি সরকারকে তুলোধনা করেছেন তিনি।সাংসদ হিসাবে লোকসভায় প্রথম ভাষণ দিতে গিয়ে ২০১৭ সালের উন্নাও ধর্ষণ এবং ২০২০ সালের হাথরসের গণধর্ষণের কথাও বলেন তিনি।সংবিধান নিয়ে বিতর্কে অংশ নিয়ে নাম না করেই কটাক্ষ করে বললেন, ‘ভারতে সংবিধান রয়েছে, সংঘের বিধান নয়।’ সংবিধান আমাদের সুবিচার, ন্যায়, সংহতি, মতপ্রকাশের বর্ম।কিন্তু এটা দুঃখের যে গত ১০ বছর ধরে আমাদের শাসক দলের বন্ধুরা যাঁরা বড় বড় দাবি করেন, তাঁরাই এই কবচকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার সমস্ত রকম চেষ্টা করে চলেছেন।এই সংবিধান প্রত্যেক দেশবাসীকেও সরকার তৈরি করার এবং ফেলে দেওয়ার অধিকার দিয়েছে।এই জ্যোতি প্রত্যেক ভারতীয়কে ভরসা দিয়েছে যে দেশের সম্পত্তি, প্রতিষ্ঠানে তাঁর অধিকার রয়েছে।দেশ তৈরিতে তাঁরও অবদান রয়েছে।প্রিয়াঙ্কা তাঁর ভাষণের শেষ করেন, ‘সত্যমেব জয়’ বলে।
দৃঢ় কন্ঠে প্রিয়াঙ্কার এই ভাষণে মুগ্ধ শাষক ও বিরোধী দল।ভাষণ চলাকালীন যদিও কিছুবার বিরোধীতা করতে দেখা গিয়েছিল এনডিএর সাংসদদের।কিন্তু বেশিরভাগ সময়েই সবাই চুপ করে প্রিয়াঙ্কা গান্ধির কথা শোনেন।রাজ্যসভার সাংসদ হলেও এদিন মেয়ের ভাষণ শুনতে লোকসভার গ্যালারিতে হাজির ছিলেন কংগ্রেসের প্রাক্তন সভানেত্রী সোনিয়া।ভাষণ শেষ হওয়ার পর প্রথম বেঞ্চ থেকে উঠে গিয়ে বোনকে অভিনন্দন জানান রাহুল।‘লোকসভার বিরোধী দলনেতার সাফ কথা, প্রথম ভাষণে দারুণ কথা বলেছে প্রিয়াঙ্কা।আমার প্রথম ভাষণের চেয়েও অনেক বেশি ভালো বলেছে।’
