দিন দর্পণ, নয়াদিল্লিঃ‘এক দেশ, এক ভোটে’ সিলমোহর দিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভার।সংসদে আসছে নতুন বিল।বৃহস্পতিবার ‘এক দেশ, এক নির্বাচনের’ প্রস্তাবে সায় দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা।সংসদের চলতি অধিবেশনেই এই মর্মে বিল পেশ করতে চলেছে মোদি সরকার।আগে যানা গিয়েছিল, শীতকালীন অধিবেশনে না হলেও হয়তো পরবর্তী অধিবেশনে এই বহুচর্চিত বিলটি পেশ করা হতে পারে।তবে চলতি শীতকালীন অধিবেশনেই সংসদে ‘এক দেশ, এক ভোট’ বিল পেশ হওয়ার সম্ভাবনা জোড়ালো।
এই বছরই লালকেল্লায় স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে ভাষণ দেওয়ার সময় ‘এক দেশ, এক নির্বাচন ’ নিয়ে সওয়াল করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।তিনি যুক্তি দেখিয়ে বলেন, এত ঘন ঘন নির্বাচন হলে দেশের উন্নয়ন মূলক কাজে বাধা পড়ছে।গোটা দেশ এই দাবি সমর্থন করেছে।এ বিষয়ে সরকার পক্ষের দাবি, এই ব্যবস্থা চালু হলে ভোট প্রক্রিয়ার জন্য যে বিপুল অঙ্কের খরচ হয়ে থাকে, তা অনেকটাই কমে যাবে।বুধবার কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান ‘এক দেশ, এক নির্বাচনের’ পক্ষে জোর সওয়াল করেছেন।তাঁর দাবি, বারবার নির্বাচনের কারণে দেশের অগ্রগতি থমকে যাচ্ছে।
এই বিলের বাস্তবতা খতিয়ে দেখতে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করেছিল কেন্দ্র।মার্চ মাসে সেই কমিটি রাষ্ট্রপতি ভবনে গিয়ে দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে রিপোর্ট জমা দিয়েছে।যেখানে ‘এক দেশ,এক নির্বাচনে’-এর পক্ষে সায় দেওয়া হয়েছে।‘এক দেশ, এক ভোট’এই পরিকল্পনার বাস্তবে রূপান্তর করতে ভারতের সংবিধানে সংশোধন আনতে হবে।গত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির কাছে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে ঠিকই, কিন্তু দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বেশ কঠিন হতে পারে।এখন যা পরিস্থিতি তাতে, রাজ্যসভার ২৪৫টি আসনের মধ্যে ১১২টি রয়েছে এনডিএ-এর হাতে।বিরোধীদের হাতে রয়েছে ৮৫টি।দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে সরকারের প্রয়োজন ১৬৪টি ভোট।লোকসভার ক্ষেত্রে মোট ৫৪৫টি আসনের মধ্যে এনডিএ-এর হাতে রয়েছে ২৯২ টি আসন।দুই-তৃতীয়াংশ হতে গেলে প্রয়োজন ৩৬৪টি ভোট।শীতকালীন অধিবেশন এই গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশ করা হয়ে পারে সংসদে।অধিবেশনের ১৪তম দিনে ‘এক দেশ, এক ভোটের’ প্রস্তাবে সায় দিল গোটা ক্যাবিনেট।২০ই ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে এই অধিবেশন।তার মধ্যেই এই বিল পাশ করিয়ে নিতে চেষ্টা করবে কেন্দ্রীয় সরকার।
