দিন দর্পণ, জয়পুরঃরাজস্থানের দৌসায় গত সোমবার কুয়োয় পড়ে যায় বছর পাঁচেকের এক নাবালক।১৫০ ফুট গভীর কুয়োয় পড়ে যায়।গতকাল রাতে তার দেহ উদ্ধার করা হয়।টানা ৫৫ ঘন্টা ধরে উদ্ধার কাজ চালিয়েও, শেষ রক্ষা হল না।আরিয়ান নামের ওই শিশুর নিথর দেহ উদ্ধার করেন উদ্ধারকারী দলের সদস্যেরা।তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
৯ই ডিসেম্বর, সোমবার দৌসায় কালিখাড় গ্রামে ছোট্ট আরিয়ান তার মায়ের সঙ্গে মাঠে গিয়েছিল।সেখানে নলকূপ বসানোর বোরওয়েলের কাছে খেলতে খেলতে দুপুর আড়াইটে তিনটে নাগাদ পড়ে যায় ১৫০ ফুট গভীর কুয়োয়।বাড়ি থেকে মাত্র ১০০ মিটার দূরে ঘটে এই দুর্ঘটনা।সঙ্গে সঙ্গে ঘটনার কথা গ্রামে এসে জানান মহিলা।খবর যায় প্রশাসনের কাছে।শিশুটিকে উদ্ধার করতে দ্রুত সেখানে উপস্থিত হয় জাতীয় ও রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা।গর্তের ভিতরে যাতে অক্সিজেনের সমস্যা না হয় তার জন্য পাইপের মাধ্যমে অক্সিজেন পাঠানো হয়।ভেতরে ক্যামেরা প্রবেশ করিয়ে শিশুটির শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেওয়া হয়েছিল।মঙ্গলবার রাতেই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থলে পৌঁছান রাজস্থানের মন্ত্রী কিরোড়ি লাল মিনা।
এক ঘণ্টা পরে শুরু হয় উদ্ধারকাজ।আরিয়ানকে উদ্ধার করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা।কিন্তু বেশ কিছু মেশিনের গোলমালে বেশ কিছুক্ষণ উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয়।তবে কাজে আসে কুয়োর পাশে সমান্তরাল ভাবে আরও একটি কুয়ো খননের পদ্ধতি।উদ্ধার কাজ চলার সময়েই ড্রিলিং মেশিন খারাপ হয়ে যায়।পরে নতুন মেশিন এনে উদ্ধারকাজ শুরু হয়।কুয়োটিতে ১৬০ ফুট জল ছিল।সব মিলিয়ে একের পর এক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।একাধিক জেসিবি মেশিন কাজে লাগিয়ে ওই গর্ত খনন করা হয়।শেষ পর্যন্ত দড়ি বেঁধে শিশুটিকে উপরে তোলার চেষ্টা করা হয়।জানা গিয়েছে, বুধবার রাতে আরিয়ানকে যখন কুয়ো থেকে বের করা হয়, তখন সে অচৈতন্য অবস্থায় ছিল।যদিও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা জানান শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।
