দিন দর্পণ, কলকাতাঃ চিটফান্ড কাণ্ডে বড়সড় পদক্ষেপ ইডির বেশ কয়েকদিন থেকেই পালিয়ে বাঁচছিলেন বাবা ও ছেলে।এবার ইডির হাতে একসাথে ধরা পরল দুইজন।প্রয়াগ গ্রুপের দুই ডিরেক্টর বাসুদেব বাগচি এবং অভীক বাগচি।মঙ্গলবার সকাল থেকে কলকাতা এবং মুম্বাইে একসাথে চলে ইডির তদন্ত।নিউ আলিপুরে প্রয়াগ গ্রুপের দুই ডিরেক্টরের বাড়িতে তল্লাশি শুরু হয়।এছাড়াও জোকার ডায়মন্ড হারবার রোডের একটি বাড়িতেও তল্লাশি চালান তারা।এমনকি দীর্ঘক্ষণ ধরে মুম্বইতেইও তল্লাশি চলে।
এরপরেই বাসুদেব বাগচী ও অভীক বাগচীকে গ্রেফতার করে ইডি।অভীককে গ্রেফতার করা হয় মুম্বই থেকে।দুজনের বিরুদ্ধে আমানতকারীদের কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।এছাড়াও একাধিক অভিযোগ রয়েছে এই দুজনের।আর সেই সমস্ত অভিযোগের ভিত্তিতেই আজ বুধবার সকালে প্রয়াগ গোষ্ঠীর দুই শীর্ষ আধিকারিককে গ্রেফতার করা হয়। ধৃত দুজনকেই আজই আদালতে তোলা হবে।
মুম্বই থেকে অভীক বাগচীকে আজ বুধবারই কলকাতায় নিয়ে আসা হচ্ছে বলে খবর।গত কয়েক বছর আগে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে চিটফান্ড কান্ডে তদন্ত শুরু করে সিবিআই।সারদা সহ সমস্ত চিটফাণ্ডের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়।হঠাৎ করে প্রয়াগ গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে একটি এফআইআর তদন্ত শুরু করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।সেই মতো কলকাতা, মুম্বই সহ দেশের অন্তত ১০ টি জায়গায় একযোগে তল্লাশি শুরু করে ইডি।
জানা গিয়েছে , ১৯৯৭ সালে দিল্লি থেকে প্রয়াগ গোষ্ঠীর যাত্রা শুরু হয়।২০১৭ সালে ১৫ মার্চ প্রয়াগ গোষ্ঠীর কর্ণধার বাসুদেব বাগচি এবং অভীক বাগচি সিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতার হয় ।পরে জামিন মুক্ত ছিলেন।২০১৭সালের মামলা দায়ের হয়েছিল ওড়িষ্যায়।ওড়িষ্যা, আসাম, ত্রিপুরা সহ উত্তর পূর্ব ভারতে ছড়িয়ে রয়েছে এই গ্রুপ।বিভিন্ন বেআইনি স্কিমের টোপ মানুষকে দেখিয়ে ১৯০০ কোটি টাকা তুছরুপের অভিযোগ আছে এই দুজনের নামে।এই চিটফান্ড গোষ্ঠী বাজার থেকে ২৮০০ কোটি টাকা তুলেছিল। কিন্তু বড় অংশের টাকা আমানতকারীদের ফেরত দেয়নি সংস্থা। বড়সড় এই কেলেঙ্কারির পিছনে প্রভাবশালী যোগ আছে। তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানা যানায় ইডি।
