দিন দর্পণ, নয়াদিল্লিঃ দিল্লির পরিবেশ বেশ কয়েকদিন থেকেই খুবই ভয়ানক হয়ে উঠছে।দিল্লির বাতাসে নিঃশ্বাস নেওয়া দায়।বাতাসের গুণমান ১০১ থেকে ২০০ হলেই খারাপ। সেখানে দিল্লির বাতাসের গুণমান ৫০০ ছুঁয়েছে।রাজধানীতে মানুষের বেঁচে থাকাটাই দায়।বয়স্ক এবং শিশুদের প্রাণের ঝুঁকিও দেখা দিচ্ছে।
রাজধানীর অবস্থা এতটাই শোচনীয় হয়ে উঠেছে যার কারণে দিল্লির পরিবেশ মন্ত্রী গোপাল রাই ১৯ই নভেম্বর কেন্দ্রীয় পরিবেশ ভূপেন্দর যাদবকে চিঠি লিখেছেন।সেই চিঠিতে তাঁকে যানানো হয়, দিল্লিতে কৃত্রিম বৃষ্টিপাত পরিচালনা করার জন্য অনুরোধ করার জন্য।দিল্লির পরিবেশে সাময়িক ভাবে দূষণ কমানোর জন্য এই ভাবনা।
কৃত্রিম বৃষ্টিপাত কী জেনে নেওয়া যাক!
কৃত্রিম বৃষ্টিপাত করার জন্য প্রথমে মেঘের মধ্যে বীজবপণ করতে হয়।এ জন্যে প্রথমত মেঘ সৃষ্টি করতে হয়; দ্বিতীয় পর্যায়ে এই মেঘকে বৃষ্টিপাতের উপযোগী অবস্থায় নিয়ে আসতে হয় এবং শেষে মেঘ গলিয়ে বৃষ্টি ঝরানো হয়।প্রথম পর্যায়ে যেখানে বৃষ্টিপাত আবশ্যক সেখানে রাসায়নিক ব্যবহার করে মেঘ সৃষ্টি করা হয়।ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড, ক্যালসিয়াম কার্বাইড, ক্যালসিয়াম অক্সাইড, ইউরিয়া এবং লবণ মিশ্রিত একটি রাসায়নিক অথবা ইউরিয়ার সঙ্গে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট মিশিয়ে প্রস্তুত একটি রাসায়নিক মেঘ সৃষ্টিতে ব্যবহার করা হয়।এই রাসায়নিক বায়ু থেকে আর্দ্রতা আহরণ করত ঘনীভবন প্রক্রিয়ার সূত্রপাত ঘটায়।দ্বিতীয় পর্যায়ে রাসায়নিকের সাহায্যে মেঘপুঞ্জ তৈরি করা হয়।এ প্রক্রিয়ায় সোডিয়াম ক্লোরাইড, টি-১ ফর্মুলা, ইউরিয়া, অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট, শুকেনো বরফ এবং কখনো কখনো ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড ব্যবহার করা হয়।এতে মেঘের দ্রুত ঘনীভবন হয় এবং তা পতনশীল অবস্থায় পৌছেঁ।তৃতীয় পর্যায়ে বিমানের সাহায্যে মেঘরাশির ওপর সিলভার আয়োডাইড নামক রাসায়নিক পদের্থের স্ফটিকদানা (বা কখনো কখনো বিচূর্ণ শুকেনো বরফ)ছড়িয়ে দিয়ে মেঘধৃত আর্দ্রতাকে বড়-বড় পানির ফোঁটায় পরিণত করা হয় যা আর বাতাসে ভাসতে না-পেরে মাটিতে নেমে আসে এবং বৃষ্টিপাত সংঘটিত হয়।
দিল্লিতেই এই প্রথম কৃত্রিম বৃষ্টিপাতের পরিকল্পনা করা হয়েছে এমনটা নয়।এর আগে, ২০২৩সালে আইআইটি কানপুরের ক্যাম্পাসে সীমিত এলাকায় কৃত্রিম বৃষ্টিপাতের প্রযুক্তি সফলভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে।এছাড়াও, গুরুগ্রামে বায়ু দূষণ রুখতে কৃত্রিম বৃষ্টিপাত করা হয়েছে।
