দিন দর্পণ, নদীয়াঃ নদীয়া বউভাতের অনুষ্ঠানে রক্তদান শিবির নবদম্পতির।নতুন জীবনের শুরুতে মুমূর্ষ রোগীদের পাশে নবদম্পতি।বিয়ের পরদিনই আয়োজন করেছিলেন থ্যালাসেমিয়া চিহ্নিতকরণ শিবিরের। বউভাতের সকালে আয়োজন করেছিলেন রক্তদান শিবিরের। সবমিলিয়ে নতুন জীবনের শুরুটাই অন্যভাবে লিখলেন নদীয়া জেলার কালীগঞ্জ থানার ছোট কুলবেরিয়ার দম্পতি।নবদম্পতির বক্তব্য,”নতুন জীবনের শুরুতে বেশকিছু মুমূর্ষু রোগীকে যাতে রক্ত জোগান দেওয়ার মাধ্যমে বাঁচিয়ে তুলতে পারি,এমন ভাবনা থেকেই বউভাতের দিন রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল।তার আগেরদিন থ্যালাসেমিয়া চিহ্নিতকরণ শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল।আমাদের বিয়েতে নিমন্ত্রিত বন্ধুবান্ধব, আত্মীয় পরিজনদের মধ্যে অনেকেই উৎসাহিত হয়ে রক্তদান করেছেন।১০০ জন স্বেচ্ছায় রক্তদান করেছেন।আগামীদিনে এমন ধরনের আরও বেশকিছু কাজ করার ইচ্ছে আমাদের রয়েছে।কালিগঞ্জ থানার ছোট কুলবেরিয়া এলাকার বাসিন্দা ওসমান সেখ দেখাশোনা করে সামাজিক মতে তাঁর সঙ্গে বিয়ে হয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলার সাগরদিঘী মল্লিক গ্রামের সেমিমা সেখ গত ১৫ নভেম্বর শুক্রবার ছিল বিয়ের অনুষ্ঠান।
ওসামা ছোট কুলবেড়িয়া গ্রামে সেমিমা সেখকে বিয়ে করতে গিয়েছিলেন।পরদিন নববধূকে বাড়িতে রক্তদান শিবির আয়োজন করে নিজের উৎসাহেই সেই শিবিরে হাজির হয়েছিলেন নববধূও।ওসাম সেখ জানান,’রক্তের অভাব রয়েছে।সামাজিক কাজের সঙ্গে আমি অনেক আগে থেকেই যুক্ত রয়েছি।তাই নতুন জীবন শুরুর আগে মুমূর্ষু মানুষের কথা ভেবে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছা ছিল।তাই থ্যালাসেমিয়া চিহ্নিতকরণ শিবির এবং রক্তদান শিবিরের আয়োজন করেছিলাম।বিয়েতে নিমন্ত্রিত বন্ধুবান্ধব,আত্মীয়স্বজন অনেকেই উৎসাহী হয়ে রক্তদান করেছেন।আগামীদিনে আরও এরকম সামাজিক কাজ করতে চাই।নববধূ সামিমা সেখ নতুন শাড়িতে সজ্জিত হয়ে হাজির ছিলেন রক্তদান শিবিরের অনুষ্ঠানে।তাদের বিয়েতে এমন ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করায় ভীষণ খুশি সামিমা সেখ।তিনি জানিয়েছেন,“আমাদের নতুন জীবন শুরুর সময় মুমূর্ষু মানুষদের পাশে থাকার চিন্তাভাবনা থেকেই বিয়ের অনুষ্ঠানের মধ্যে রক্তদান শিবিরের আয়োজন করেছিলাম।কারণ,মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারে একমাত্র মানুষই।সকাল ১১টা থেকে রক্তদান শিবির শুরু হয়ে দুপুর অবধি চলে।বউভাতের অনুষ্ঠান। রক্তদাতারা রক্তদানের মাধ্যমেই নববধূকে করেছেন আশীর্বাদ।
