দিন দর্পণ, কলকাতাঃ মানুষের মধ্যে ডায়বেটিস প্রতিরোধ ও ব্যবস্থ্যপনা রাখতে এবং সচেতনতা বাড়াতে ১৪ নভেম্বর বিশ্ব ডায়বেটিস দিবস পালন করা হয়ে থাকে। বিশ্বের মধ্যে সবথেকে বেশি ডায়বেটিস পেশেন্ট এর সংখ্যা রয়েছে ভারতে। ১৪০ কোটির দেশে প্রায় ২১.২ কোটি ডায়বেটিস রোগী রয়েছেন, তাও ২০২২ সালের হিসাবে। এরপরেই রয়েছে চিন। সেখানে প্রায় ১৪.৮ কোটি মানুষ ডায়াবেটিসে ভুগছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন ৪ কোটি ২০ লক্ষ সুগার রোগী। ল্যানসেটের সাম্প্রতিক সমীক্ষায় এই তথ্য ধরা পড়েছে। সমীক্ষা অনুযায়ী, টাইপ ওয়ান এবং টাইপ টু মিলিয়ে বিশ্বে আনুমানিক ৮৩ কোটি ডায়াবেটিস রোগী রয়েছেন।যা ১৯৯০ সালের হিসাবে চারগুণ বেশি।
ডায়বেটিস শুধুমাত্র রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি করে তাই নয়। এর ফলে চোখ, স্নায়ু, বৃক্ক-এর ক্ষতিও হয়। চোখের রেটিনার রক্তবাহ ক্ষতিগ্রস্ত হলে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি নামক একটি রোগ হয়, যার ফলে দৃষ্টিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এমনকি অন্ধত্বও হতে পারে। ডায়বেটিস এর ফলে গ্লুকোমা, ছানি ও চোখের অন্যান্য রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এই রোগে আক্রান্ত রোগীদের বছরে একবার চোখের ডাক্তার দেখানো উচিত। বৃক্কের ক্ষতি হলে ডায়াবেটিক নেফ্রোপ্যাথি নামক রোগ হয়, যার ফলে গ্লোমেরুলোস্ক্লেরোসিস বা বৃক্কপিণ্ড কাঠিন্য, প্রস্রাবের সাথে প্রোটিন নির্গত হওয়া (প্রোটিনিউরিয়া) এবং দীর্ঘস্থায়ী বৃক্কীয় রোগ হয় এবং এর ফলে ডায়ালাইসিস বা বৃক্ক প্রতিস্থাপন প্রয়োজন হয়।
ডায়বেটিস আপনার শরীরে দানা বাঁধছে কী, তা কীভাবে বুঝবেন, আসুন জেনে নেওয়া যাক ঠিক কী কী লক্ষণ দেখে আপনি বুঝবেন আপনি ডায়বেটিস পজেটিভ। অবাঞ্ছিত ওজন হ্রাস, ঘন ঘন প্রস্রাব, অত্যধিক তৃষ্ণা ও ক্ষুধাবৃদ্ধি। টাইপ ১ ডায়াবেটিসে রোগের লক্ষণ খুব দ্রুত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে প্রকাশ পায়, তবে টাইপ ২ ডায়াবেটিসে অনেক ধীরে ধীরে লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়, এমনকি কখনো কখনো কোনো লক্ষণ না-ও প্রকাশ পেতে পারে।বছরে একবার অন্তত ডায়বেটিস পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া দরকার। ডায়বেটিস পসেটিভ প্রকাশ পেলে অবশ্যই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
