দিন দর্পণ– নয়াদিল্লি: বুধবার ১৩ই নভেম্বর ২০২৪ সুপ্রিম কোর্ট উত্তরপ্রদেশে বুলডোজার দিয়ে বাড়িঘর ভাঙার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কড়া প্রতিক্রিয়া জানায়। কোন অভিযুক্ত অপরাধ করা মানেই এই নয় তার বাড়ি ভেঙে ফেলার অধিকার রাজ্য প্রশাসনের আছে। রাজ্য প্রশাসনের কোনও অধিকার নেই অভিযুক্তের বিচার হওয়ার আগেই অভিযুক্তের বাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে ফেলার। বাসস্থান যেকোন মানুষের একটি মৌলিক অধিকার। এই ধরনের অধিকার থেকে নিরাপরাধ মানুষকে বঞ্চিত করা সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক।
১৩ই নভেম্বরের শুনানিতে প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় বলেন, সরকারের এই পদক্ষেপ স্বেচ্ছাচারিতা এবং মানুষের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের সামিল। কোনও নির্মিত বাসস্থান ভাঙার আগে নোটিশ জারি করা বাধ্যতামূলক। অন্তত ১৫ দিন আগে নোটিশ দিতে হবে।
বিচারপতি জেবি বলেন, এখন পর্যন্ত ১২৩টি অবৈধ বাড়ি ভাঙা হয়েছে।যেখানে পরিবারকে বাড়ি খালি করার সময়টুকু দেওয়া হয়নি।তবে সুপ্রিম কোর্টের প্রশ্ন ছিল, বিগত ৫০ বছরে এসব নির্মাণ কেন অননুমোদিত রয়ে গেল।
বাড়ি ভাঙার বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে –
ক)কেন বাড়িটি ভাঙার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
খ)ভাঙার কারণ ও শুনানির তারিখ উল্লেখিত থাকতে হবে।
গ)বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিতে হবে কেন এমন চরম পদক্ষেপ করতে হচ্ছে।
ঘ)বিজ্ঞপ্তি জারির সঙ্গে সঙ্গে জেলাশাসককেও তা মেলের মাধ্যমে জানিয়ে দিতে হবে।
ঙ)বিস্তারিত স্পট রিপোর্ট অবশ্যই তৈরি করতে হবে। এবং নির্মাণটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার ভিডিও রেকর্ডিং রাখতে হবে। ঘটনাস্থলে সরকারি আধিকারিক ও পুলিশকে উপস্থিত থাকতে হবে।
চ)এই নির্দেশ অমান্য করলে তা অবমাননা বা অন্যান্য আইনি পদক্ষেপের জন্য বিচার্য হবে।
ছ)এই নির্দেশিকা লঙ্ঘন করা হলে দায় বর্তাবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপরে।
সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, বেআইনি নির্মাণটি যদি সরকারি রাস্তা, রেললাইন, ফুটপাথ বা জলাশয়ের উপরে হয় কিংবা ওই ভাঙার কাজটি কোনও আদালতের নির্দেশে হয় সেক্ষেত্রে এই গাইডলাইন মানতে হবে না। তবে কোনও সরকারি আধিকারিক কখনই বিচারপতি নন। কাউকে বিনা বিচারে দোষী সাবস্ত করে তার বাড়ি গুড়িয়ে দেওয়ার অধিকার তার নেই।
