REBUILD BABRI MASZID SLOGANS- ‘নতুন করে গড়ে তোলা হোক বাবরি মসজিদ!’ এই স্লোগানে ছয়লাপ দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।
দিন দর্পণ, নয়াদিল্লি- ‘নতুন করে গড়ে তোলা হোক বাবরি মসজিদ!’ (babri mosque)রাম মন্দির উদ্বোধন নিয়ে উন্মাদনার মাঝেই এই স্লোগানে ছয়লাপ দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস (jnu campus)। ফের একবার বাবরি মসজিদ গড়ে তোলার দাবি উঠল জাতীয় রাজধানীর অন্যতম এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।
দেখা গিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের স্কুল অফ ল্যাঙ্গুয়েজ বিল্ডিংয়ের (school of language building)দ্বিতীয় তলের একটি দেওয়ালে স্প্রে পেইন্ট (wall sprey paint)করে লেখা হয়েছে, ‘৬ ডিসেম্বর (december) ভেঙে ফেলা বাবরি মসজিদ পুনর্র্নিমাণ করা হোক’। এই বার্তা দেওয়া হয়েছে ন্যাশনাল স্টুডেন্ট ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া (national student union of india)সংগঠনের পক্ষ থেকে। এই নামটিও দেওয়ালে স্প্রে পেইন্ট করে লেখা হয়েছে। যা নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে। যদিও তাজ্জব ব্যাপার এই সংগঠন স্প্রে পেইন্ট করার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ছাত্রদের এই সংগঠনের বক্তব্য, তারা কোনওভাবেই এই ধরণের বার্তা সমর্থন করে না। সংগঠন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি নষ্ট করতেই ক্যাম্পাসে এই কাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ ন্যাশনাল স্টুডেন্ট ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়ার। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আর্জি জানিয়েছে এই সংগঠন।
এটাই প্রথম নয়। এর আগেও বহুবার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের দেওয়া স্প্রে পেইন্টের মাধ্যমে নানা বার্তা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। গত অক্টোবর মাসেই ‘ফ্রি কাশ্মীর’, ‘তেরি কবর খোদেগি’, ‘ভাগওয়া জ্বালেগা’ জাতীয় স্লোগান দেখা গিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়-এর দেওয়ালে।
প্রসঙ্গত, পড়ুয়াদের আন্দোলন দমনে সপ্তাহ দুয়েক আগেই কড়া পদক্ষেপের কথা ঘোষনা করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গত ১১ ডিসেম্বর নির্দেশিকা জারি করে একগুচ্ছ নতুন নিয়মাবলী এবং তা ভাঙার শাস্তি ঘোষণা করা হয়েছে কর্তৃপক্ষের তরফে।
নতুন নির্দেশিকায় বলা হয়েছিল, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও প্রশাসনিক বা শিক্ষা ভবনের ১০০ মিটারের মধ্যে ধর্না-বিক্ষোভ করলে সংশ্লিষ্ট পড়ুয়াদের ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে। কোনও রকম ‘রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান’ তুললে দিতে হবে ১০ হাজার টাকা জরিমানা। ‘অপরাধের’ গুরুত্ব বুঝে দোষী পড়ুয়াকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হতে পারে বলেও জেএনইউ-র চিফ প্রক্টরের দফতরের জারি করা নির্দেশিকায় জানানো হয়েছিল।
উল্লেখ্য, রাম মন্দির নিয়ে রাজনীতি তুঙ্গে। একাধিক রাজনৈতিক দলের প্রথম সারির নেতাদের ২২ জানুয়ারি অযোধ্যার অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো নিয়ে তরজা চলছে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, কংগ্রেসের সনিয়া গান্ধি, মল্লিকার্জুন খাড়গে, অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। যদিও কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কে বা কারা ২২ জানুয়ারির অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন, তা এখনও স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি। এদিকে, আমন্ত্রণ ফিরিয়ে দিয়েছেন সিপিআইএম-এর সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাম মন্দির উদ্বোধনের সঙ্গে রাজনীতিকে জড়িয়ে ফেলার অভিযোগ তুলেছে এই দুই দল।
অন্যদিকে, আমন্ত্রণ পাননি এনসিপি প্রধান শরদ পাওয়া এবং সমাজবাদী পার্টি সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব। শরদ পাওয়ার যদিও জানিয়েছেন, আমন্ত্রণ পেলেও তিনি রাম মন্দিরের উদ্বোধনে যেতেন না। যদিও সপার তরফে ডিম্পল যাদব জানিয়েছেন, তাঁরা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যেতে প্রস্তুত। আমন্ত্রণ পেলে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যাওয়ার কথা বিবেচনা করতে পারেন বলে জানিয়েছেন ঝাড়খন্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন। এদিকে, রাম মন্দিরের উদ্বোধনের আগে সেজে উঠেছে সরযূ নদীর তীর। প্রস্তুত অযোধ্যার নয়া এয়ারপোর্ট। নাম দেওয়া হয়েছে মহর্ষি বাল্মীকি বিমানবন্দর।
