মঞ্জুর মোল্লা , গোপাল সুন্দর বিশ্বাস- ১৯.০২.২৪ সময়ঃ ০৬.২১
দিন দর্পণ ডিজিটাল ডেস্কঃ আধার যেন আঁধারেই থেকে যাচ্ছে। একদিকে যখন আধার কার্ড ছাড়া মানুষের জীবন মূল্যহীন হয়ে পড়ছে, সেই সময় রাজ্যজুড়ে আধার কার্ড বাতিলের খবরে ঘুম উড়েছিলো সকলের। বর্ধমানের জামালপুর এবং নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জে আধার কার্ড বাতিল হওয়ার পর রাজ্যজুড়ে সেই আতঙ্কের আগুনে যেন ঘৃতাহুতি পড়ে।
বলা বাহুল্য, আধার কার্ড ডি-অ্যাক্টিভেটের খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজ্য বিজেপির নেতারা বেশ অস্বস্তিতেই পড়েন। এই রবিবার সিউড়ির সভা থেকে বেশ কড় মন্তব্য করেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। তিনি বলেন, আধার কার্ড বাতিল করে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা বন্ধ করতে চাইছে বিজেপি সরকার। কিন্তু আমি তা করতে দেবো না। বাংলার ১টা মানুষকেও আমি আদারের সঙ্গে যুক্ত হতে দেবো না।
এরপরই এই বিষয়ে সক্রিয় হয়ে ওঠেন রাজ্য বিজেপির নেতারা। সুকান্ত মজুমদার এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দেখা করেন কেন্দ্রের তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে। অবিলম্বে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন তিনি। এরপর নিজের টুইটার হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। সেখানে তিনি লেখেন, আধার কার্ড ডি-অ্যাক্টিভেটের ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখার জন্য আমি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অমিত শাহ এবং অশ্বিনী বৈষ্ণবকে ধন্যবাদ জানাই। তারা আশ্বস্ত করেছেন ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ডি-অ্যাক্টিভেট হয়ে যাওয়া কার্ডগুলি পুনরায় অ্যাক্টিভেট হয়ে যাবে। এর পাশাপাশি তিনি লেখেন, লোকসভা ভোটের আগে আধার কার্ড ডি-অ্যাক্টিভেট হয়ে যাওয়ার পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হবে। এছাড়া ওই ঘটনা গিয়ে সাংবাদিকদের সামনে এ বিষয়ে মন্তব্য করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার এবং কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর। তাঁরা দু-জনেই এর কারণ হিসেবে টেকনিক্যাল ফল্টের কথা বলেছেন। অবিলম্বে সমস্যা সমাধানের কথাও বলেছেন। এবং একটি হোয়াটস নম্বরও দিয়েছেন।
আবার আধার সমস্যা সমাধানের জন্য একটি পোর্টাল চালু করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যা। সোমবার এনিয়ে তিনি নবান্নর সভাঘর থেকে ঘোষমাও করেছেন।
আধার কার্ড নিয়ে সমস্যা আজকের নয়। এই আধার বাতিলের প্রসঙ্গ আগেও উঠেছিলো। সব মিলিয়ে লোকসভা ভোটের আগে এই আধার কার্ড যে এখন রাজ্যের শাসক দলের হাতিয়ার উঠল তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আর এসবের যাঁতাকলে পড়ে নাভিশ্বাস অবস্থা যাদের আধার কার্ড ডি-অ্যাক্টিভেট হয়ে যাওয়া মানুষগুলোর। তারা পারছে না ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তুলতে, না পাচ্ছে না রেশন। কবে সমস্যার সমাধান হবে, সেদিকেই তাকিয়ে এইসব মানুষগুলো।
