গোপাল সুন্দর বিশ্বাস, ১৫.০২.২৪ সময়ঃ ০৬.০৬
দিন দর্পণ ডিজিটাল ডেস্কঃ ধর্মপ্রাণ নদীয়ার পুজোর শহর শান্তিপুর। এখানে রাস জগদ্ধাত্রী দুর্গা কালী যেমন পূজিত হন তেমনই গণেশ বিশ্বকর্মা সরস্বতী বাদ যায় না কোন পুজোই। শুধুই পুজো নয় রীতি রীতি মতন সারম্বরে পালিত হয় শোভাযাত্রা সহ বিসর্জন পর্বও।
গঙ্গাঘাটে বিসর্জন বিপদজনক তাই পুরসভার পক্ষ থেকে সূত্রাগড় সহ শান্তিপুর শহর এলাকায় মোট তিনটি ঘাটে সৌন্দর্যায়ন করা হয়েছে শান্তিপুর পুরসভার পক্ষ থেকে। তবে এর মধ্যে মতিগঞ্জ মোড় সংলগ্ন বিসর্জন ঘাট ব্যাপকভাবে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। যদিও জলাশয়ের নাব্যতা নিয়ে সে সময়েও প্রশ্ন ছিলো। তবে পৌরসভার পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল শুধুমাত্র বিরোধিতা করার জন্যই বিরোধীদের নানান জল্পনা আদতেও মানুষ উপকৃত এবং খুশি। যদিও সৌন্দর্য বৃদ্ধির পর ভাঙারাসের বিসর্জন, ঠিকঠাক হলেও সরস্বতী বিসর্জনে আবার পূর্বের অবস্থা। আজ বিসর্জন ঘাস ঘাটে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্লাব বারোয়ারি বিদ্যালয়ের কচিকাঁচারা বিসর্জন দিতে এসে পড়ছেন বিপদজনক পরিস্থিতির মধ্যে। যদিও এ বিষয়ে শিক্ষক শিক্ষিকারা প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বপ্রাপ্ত হওয়ার কারণে প্রশাসনিক সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার জন্য মুখ খোলেননি প্রকাশ্যে তবে অভিভাবকরা জানিয়েছেন, সমস্যার কথা।
আমরা এ বিষয়ে জানতে চেয়েছিলাম শান্তিপুর পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান কৌশিক প্রামাণিকের কাছে, তিনি বলেন কনজারভেন্সি তার দায়িত্বে থাকলেও বিসর্জনের ঘাট পরিষ্কার তার দায়িত্ব পড়ে না, সিএসসি মেম্বার শুভজিৎ দে বলেন বিষয়টি তারও নয় এরপর চেয়ারম্যান সুব্রত ঘোষ ব্যস্ততার কারণে পরিষ্কার হয়ে যাবে বলে দায় এড়ান। তবে ক্যামেরার সামনে কেউই প্রতিক্রিয়া দিতে রাজি হননি।
তবে এই বিষয় নিয়ে ই সিপিআইএম এবং বিজেপির পক্ষ থেকে আলাদা আলাদাভাবে কটাক্ষ করা হয়েছে।
সিপিআইএম নেতৃত্ব সঞ্জিত ঘোষ জানান, ঝাঁ চকচকে সৌন্দর্যয়নের খবর আপনারা করেন সে ক্ষেত্রে তাদের গালভরা মতামত দেখতে পাই, কিন্তু নিজেদের বিরুদ্ধে আঙ্গুল উঠলে তখন প্রতিক্রিয়াবিহীন হয়ে পড়েন। আমরা একাধিকবার পুরসভায় নাগরিক পরিষেবা নিয়ে ডেপুটেশন দিয়েছি সম্প্রতি পানীয় জল বাড়ি বাড়ি পৌঁছাতে গিয়ে সরকারি অর্থ নির্মিত ঢালায় রাস্তাগুলো কাটা হচ্ছে। এসবই মানুষ লক্ষ্য রাখছেন।
শান্তিপুর বিধানসভা বিজেপি সুব্রত কর জানান, সাধারণ মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে পারেন না এরকম একাধিক বিষয় নিয়ে তাদের ক্ষোভ আর তারই বহিঃপ্রকাশ হয় বিভিন্ন নির্বাচনে। প্রতিক্রিয়া বিহীন পুরসভার বিষয়ে তিনি বলেন, আসলে গোটা ব্যবস্থাটাই দুর্নীতি আর ছয়জন প্রশাসনের ভরে গেছে। তাই কেউ কারোর বিরুদ্ধে বলতে পারছে না। সম্প্রতি বিভিন্ন নির্বাচনে বিজেপি ক্ষমতায় এসে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কিছুটা কমলেও আগামী ২৪শে নির্বাচন পর্যন্ত পুরো ব্যবস্থা পাল্টানোর প্রতীক্ষা করতে হবে। কারণ তারা মুখ খুললে নানা রকম হুমকি এবং পুলিশ অত্যাচারের শিকার হচ্ছেন। এ সরকার হোক বা তৃণমূল নেতৃত্ব তাদের বিরুদ্ধে সমালোচনা পছন্দ করেন না।
