IMPOSES CONDITION ON DRUGS- পাঁচটি ওষুধ বিপননে, ৬ মাসের শর্ত কেন্দ্রের


বাবন ধুঁয়া, ১৭.০১.২৪ সময়ঃ ০৬.০০

দিন দর্পণ ডিজিটাল ডেস্কঃ ‘শরদর্দ, বদনদর্দ ভাগানাওয়ালে’র মতো বেশ কিছু জনপ্রিয় ওষুধের ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনে আগেই রাশ টানা হয়েছিল সরকারি ভাবে। এবার সেই সব কম্বিনেশন ওষুধগুলির বিপণনের উপরেও কিছুটা নজিরবিহীন শর্ত চাপিয়ে দিলো কেন্দ্রীয় ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ওই তালিকায় রয়েছে সাড়ে তিন দশক পুরোনো চারটি জ্বর-সর্দির কম্বিনেশন ওষুধের পাশাপাশি একটি সাইকোটিক ওষুধের কম্বিনেশনও। এমনিতে ওষুধ উৎপাদন ও বিপণনের জন্য রাজ্য সরকারের থেকে ছাড়পত্র নিলেই চলে। সেই অনুমতির আগে সংশ্লিষ্ট ওষুধের তিনটি পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালই যথেষ্ট। কিন্তু ওই পাঁচটি ওষুধের ক্ষেত্রে সোমবার কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, ৬ মাস অন্তর ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অফ ইন্ডিয়া বা ডিসিজিআই-র অনুমতি নেওয়ার পাশাপাশি চতুর্থ পর্যায়ের একটি সুরক্ষা সংক্রান্ত ট্রায়ালও চালাতে হবে সংশ্লিষ্ট ওষুধ সংস্থাগুলিকে। প্রথম চারটি কম্বিনেশনের জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের মধ্যে পড়ে ডি-কোল্ড টোটাল, স্যারিডন ট্রিপল অ্যাকশন, ডোলো কোল্ড, লেমোলেট, ডার্ট, ভিকোরিল, পিরিটিন, চেস্টন কোল্ড, সিনারেস্ট ইত্যাদির মতো বহুল প্রচলিত ওষুধের ব্র্যান্ডগুলি। পঞ্চম কম্বিনেশনের জনপ্রিয় ব্র্যান্ড হলো ট্যানকোডেপ, ডেপসোল প্লাস ইত্যাদি। ১৯৮৮ সালের আগে বাজারজাত হওয়া সর্দি-কাশি-জ্বর ও মনোবিকারের এই পাঁচটি কম্বিনেশন ওষুধ দেদার জনপ্রিয় হলেও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার কারণে সেগুলির উপর কড়া নজরদারি রেখেছিল কেন্দ্রীয় ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ২০১৩-র পর এই ওষুধগুলি তৈরির লাইসেন্স নতুন করে কোনও কোম্পানিকে দেওয়া বন্ধ রাখা হয়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে পরে অবশ্য এই কম্বিনেশনগুলির সুরক্ষা নিয়ে বিশদে পর্যালোচনা শুরু করে সেন্ট্রাল ড্রাগ স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন বা সিডিএসসিও। সিডিএসসিও-র এক্সপার্ট কমিটি এবার ওষুধগুলিকে শর্তসাপেক্ষে ছাড়পত্র দেওয়ার কথা জানিয়েছে। প্রথম চারটি কম্বিনেশনের ওষুধগুলি মূলত অ্যান্টিপাইরেটিক (জ্বর কমানো), অ্যানালজেসিক (ব্যথানাশক), অ্যান্টি-অ্যালার্জিক ও নেজাল ডিকনজেস্ট্যান্ট (নাক বুজে যাওয়া আটকায়)-এর মিশ্রণ। পঞ্চমটি মূলত অবসাদ ও উদ্বেগ কমানোর ওষুধের কম্বিনেশন।সিডিএসসিও-র নয়া নির্দেশে এবার থেকে ৬ মাস অন্তর ডিসিজিআই-এর থেকে ওষুধ বিপণনের অনুমতি নেওয়া এবং বেনজির ভাবে চতুর্থ পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের শর্ত চাপানো হয়েছে কোম্পানিগুলির উপর। ওষুধগুলি বাজারে চলাকালীনই করতে হবে এই ফেজ-ফোর ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল। বিশেষজ্ঞরা অবশ্য স্বাগতই জানিয়েছে কেন্দ্রীয় এই নয়া নির্দেশকে। ক্লিনিক্যাল ফার্মাকোলজির বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক শাম্ব সম্রাট সমাজদার বলেন, ‘এই কম্বিনেশনগুলি ওষুধ বিজ্ঞানের মতে খুব উৎকৃষ্ট মানের নয়। ওষুধগুলি একাধিক উপাদান একযোগে সেবন করার মধ্যে ঝুঁকিও রয়েছে। সেই ঝুঁকি বড়দের ক্ষেত্রে তেমন না হলেও ছোটদের জন্য মারাত্মক হতে পারে।’ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, সে জন্যই মাসখানেক আগে ছোটদের ওষুধের এই কম্বিনেশনগুলিকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিডিএসসিও। কেননা, এর প্রভাবে খিঁচুনি বা কনভালশন হতে পারে, ভয়াবহ ভাবে বেড়ে যেতে পারে হৃদম্পন্দনের গতি, এমনকী কিছু ক্ষেত্রে মৃত্যুর নজিরও রয়েছে। অবশ্য বড়দের ক্ষেত্রে এতটা মারাত্মক হয়নি কম্বিনেশনগুলি। তাই দু’টি কঠিন শর্তসাপেক্ষে ওষুধগুলিকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *