বাবন ধুঁয়া, ১৭.০১.২৪ সময়ঃ ০৫.০৩
দিন দর্পণ ডিজিটাল ডেস্কঃ যত দিন যাচ্ছে, ততই পরিস্থিতি আরো খারাপ হচ্ছে মণিপুরে। বিশেষ করে রাজ্য পুলিশের উপর থেকে আস্থা চলে যাচ্ছে কুকি সম্প্রদায়ের। এর মধ্যেই বুধবার ফের কুকি দুষ্কৃতিদের হামলার শিকার হলেন মণিপুরের পুলিশ কমান্ডো। রাজধানী ইম্ফল থেকে প্রায় ১১০ কিলোমিটার দূরের মায়ানমার সীমান্তবর্তী শহর মোরে-তে এদিন সকাল থেকেই নিরাপত্তা বাহিনী এবং দুষ্কৃতিদের মধ্যে গোলাগুলি চলছিল। মোরের কাছে এক নিরাপত্তা চৌকিতে বোমা ছোড়ে ও চৌকি লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুষ্কৃতিরা। সেই অতর্কিত হামলার শিকার হন ওই পুলিশ কমান্ডো। জানা গিয়েছে নিহত কমান্ডোর নাম ওয়াংখেম সমরজিৎ। রাজ্য পুলিশের এই কমান্ডো, আদতে ইম্ফল পশ্চিম জেলার মালোমের বাসিন্দা। তবে, গত বেশ কয়েকদিন ধরে তিনি মোরে শহরে মোতায়েন ছিলেন। সেখানে এক অস্থায়ী চৌকি তৈরি করা হয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, দুষ্কৃতিরা সেই অস্থায়ী কমান্ডো পোস্টে আরপিজি শেল ছুড়ে মারে। এর ফলে, প্রচণ্ড বিস্ফোরণ হয়। সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা বেশ কয়েকটি গাড়ির ক্ষতি হয়। সংঘর্ষের একটি ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, নিরাপত্তা বাহিনীর একটি ট্রাক মোরেতে ঢোকার সময়ে সশস্ত্র দুষ্কৃতিরা সেটি লক্ষ্য করে গুলি চালাচ্ছে। অবশ্য, সেই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি দিন দর্পণ। এই হামলার সঙ্গে রাজ্য পুলিশের এক সাম্প্রতিক পদক্ষেপের যোগ রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। কয়েকদিন আগে, মায়ানমার সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ মোরে-তে খুন হয়েছিলেন এক পুলিশ অফিসার। সেই হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে কুকি সম্প্রদায়ের দুই ব্যক্তিকে সম্প্রতি গ্রেফতার করেছে পুলিশ। যাকে কেন্দ্র করে কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়েছে। নতুন করে হিংসা ছড়িয়েছে মোরেতে। কুকি উপজাতিরা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে, মোরে থেকে রাজ্য পুলিশের সব সদস্যদের সরিয়ে দিতে হবে। সেখানে শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় বাহিনী রাখতে হবে। তাদের অভিযোগ, কুকি সম্পরদায়ের অসামরিক ব্যক্তিদের উপরও অযাচিতভাবে হামলা চালাচ্ছে রাজ্য পুলিশ। মণিপুর পুলিশ অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, পাহাড়ি উপত্যকায় লুকিয়ে থাকা দুষ্কৃতিরাই রাজ্য পুলিশের কমান্ডোদের উপর হামলা চালাচ্ছে।প্রসঙ্গত, গত রবিবারই ভোর চারটে নাগাদ হামলা হয় আইআরবি জওয়ানদের উপরে। ওই সময় এমা কোনদং লাইরেম্বি দেবী মন্দিরের কাছে অস্থায়ী ক্যাম্পে ঘুমোচ্ছিলেন তাঁরা। হামলা চালানোর জন্য স্থানীয় চিকিম গ্রামের পাহাড়ে ঘাঁটি গেড়েছিল জঙ্গিরা। দূর থেকেই গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। বিস্ফোরণ হয় অস্থায়ী ওই ক্যাম্পটিতে। তাতেই মৃত্যু হয়েছে এক আরআরবি কমান্ডোর। আহত হয়েছেন আরও একজন।
