দিন দর্পণ, 25 জুলাইঃ নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় এসেছেন যে সব স্বপ্ন দেখিয়ে তার মধ্যে অন্যতম হল ‘আত্মনির্ভর ভারত’ গঠন একটি। তিনি বলেছিলেন, দেশ আত্মনির্ভর হবে। দেশের মেধা দেশেরই কাজে লাগানো হবে। আর এই স্বপ্ন দেখাতে গিয়ে তিনি কংগ্রেস সরকারের অকর্মন্যতাকে দায়ি করেছিলেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার ৭০ বছর পরও কেন দেশের অর্থনীতির বিকাশ হল না দেশ কেন পিছিয়ে রয়েছে তার প্রশ্ন তুলে নরেন্দ্র মোদি কংগ্রেসকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে ছিলেন। দেশের একটা বড় অংশের মানুষ নরেন্দ্র মোদির সেই ভোকাল টনিক খেয়ে আজও পাগল। মোদি হ্যায় তো মুমকিন হ্যায়।
নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার আগে শুধু কৈফিয়ত চেয়েছিলেন কংগ্রেস সরকারের কাছে। কিন্তু তিনি যখন এক দশক ক্ষমতায় কাটিয়ে দিলেন তখন কৈফিয়ত দেওয়ার সময় এসে গেল তাঁর। দেশবাসী এখন মোদির কাছে কৈফিয়ত চাইছেন। কি হল বছরে ২ কোটি চাকরি? কোথায় গেল সুইসব্যাঙ্কে গচ্ছিত ১৫ লক্ষ কোটি কালো টাকা? দেশ কতটা আত্মনির্ভর হল? কত গুলো বৃহৎ শিল্প হল? রাষ্ট্রায়ত্ত্ব সম্পত্তির পরিমাণ কতটা বৃদ্ধি পেল? ইত্যাদি ইত্যাদি।
আর নরেন্দ্র মোদিকে যখন এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে তখন আরও বিস্ফোরক তথ্য সামনে উঠে আসছে সরকারের দেওয়া পরিসংখ্যান থেকেই। যারমধ্যে অন্যতম হল ‘মেধা পাচার’। নরেন্দ্র মোদি সরকারের দফতর থেকে দেওয়া তথ্যই বলছে, মোদির সুশাসনকালে গত পাঁচ বছরে দেশ ছেড়েছেন প্রায় ৯ লক্ষ বৈধ নাগরিক। আর গত এক বছরে ভারতে ভিসা সারেন্ডার করেছেন ২ লক্ষের বেশি বিদেশী। কেন? গত ১১ বছরেও কি দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারলেন না নরেন্দ্র মোদি?
মেধা কখন পাচার হয়? দেশ থেকে মেধা বেরিয়ে যাওয়ার পিছনে বহুবিধ কারণ থাকে। নিজ দেশে উন্নত জীবনযাত্রার সুযোগ, ভালো বেতন এবং উন্নত শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ না পেলেই মেধাবিরা বিদেশে পাড়ি জমান। অনেক দেশে ভারতীয়দের জন্য ভালো বেতনের সুযোগ এবং উন্নত কর্মপরিবেশ রয়েছে, যা তাদের আকর্ষণ করে। কিছু দেশে জীবনযাত্রার মান উন্নত এবং উন্নত জীবনযাত্রার সুযোগ থাকার কারণে অনেকে বিদেশে যেতে উৎসাহিত হচ্ছেন ভারতীয় মেধাবিরা। কিছু দেশে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বেশি থাকার কারণেও মেধাবিরা তাদের পছন্দ জায়গা হিসাবে সেই দেশকে বেছে নিচ্ছেন।
তাহলে ৫৬ ইঞ্চি ছাতি দেখিয়ে কি করলেন নরেন্দ্র মোদি? কেন দেশ থেকে ৯ লক্ষ মেধাবি চলে গেলেন? এর কৈফিয়ত তো চাইবেই বিরোধীরা। কেন বিদেশিরা এদেশে তাদের ভিসা সারেন্ডার করছেন? আসলে ধর্মের দালালি, গরু আর গোবর নিয়ে হই হই করলে মেধা তো পাচার হবেই। মেধা রুখতে গেলে সরকারকে কতকগুলো প্রগতিশীল পদক্ষেপ নিতে হয়। যেগুলি মেধাবিদের দেশে থেকে কাজ করার জন্য উৎসাহীত করবে। যেমন, উচ্চশিক্ষার সুযোগ এবং গবেষণা সুবিধা বৃদ্ধি করা। কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং উপযুক্ত বেতন প্রদান করা। জীবনযাত্রার মান উন্নত করা। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। ১১ বছর ধরে এগুলোর মধ্যে কোনটা করেছেন নরেন্দ্র মোদি?
দেশের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি মার্কেন্ডেয় কাটজু বলেছিলেন, গরু যদি মানুষের মা হয় তাহলে ষাঁড় তো বাবা! এমন ধারণা নিয়ে দেশ এগোতে পারে না।
আর এটা অস্বীকার করার কোনও উপায় নেই, প্রতিভাবান ব্যক্তিদের বিদেশে চলে যাওয়া দেশের উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করে, বিশেষ করে প্রযুক্তি, বিজ্ঞান এবং গবেষণা ক্ষেত্রে। মেধা পাচারের ফলে দেশ মূল্যবান মানব সম্পদ হারায়, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে প্রভাবিত করতে পারে। যা মূল্য চোকাতে হচ্ছে ভারতকে।
