দিন দর্পণ, 25 জুলাই: বিধানসভায় পাশ হওয়া অপরাজিতা বিল ফিরিয়ে দিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের মাধ্যমে এই বিলটি ফেরত এলো রাজ্য সরকারের কাছে। বিধানসভায় গত বছর এই বিল পাশ হওয়ার পর তা রাজভবনে পাঠানো হয়। সেই বিলে সই করলেন না রাজ্যপাল। রাজভবন সূত্রে খবর, প্রস্তাবে আপত্তি রয়েছে কেন্দ্রের। তাছাড়াও প্রস্তাবিত শাস্তিকে নিষ্ঠুর ও বিএনএসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বলে মনে করছে কেন্দ্র।
রাজভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, বিলের কয়েকটি অংশ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের আপত্তি আছে। তাদের মনে হয়েছে, এই বিল ভারতীয় ন্যায় সংহিতায় ৬৪ ধারায় বর্ণিত ধর্ষণ এবং তার সঙ্গে জড়িত শাস্তির বিধানের কয়েকটি অংশের পরিপন্থী।
সূত্রের খবর, রাজভবন ‘অপরাজিতা বিল’ নিয়ে নবান্নের থেকে কয়েকটি বিষয় জানতে চেয়েছে। রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে রাজভবনের কাছে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলি জানতে চাওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এই বিলটি অতিশয় নিষ্ঠুর বলেও মনে করছে কেন্দ্র। বিশেষ করে ফাঁসির সাজার ক্ষেত্রে অপরাজিতে বিলে যা বলা আছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে মোদি সরকার। অপরাজিত বিলে বলা হয়েছে, ধর্ষণের ঘটনায় নির্যাতিতার মৃত্যু হলে বা তিনি যদি এমন কোনও শারীরিক অবস্থায় চলে যান সেখান থেকে আর স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ফেরা সম্ভব নয়, তাহলে ধর্ষকের ফাঁসি হবে। এই অংশ নিয়ে আপত্তি তুলেছে কেন্দ্র। তাদের মনে হয়েছে, এই বিল পাশ হলে তা সংবিধানের কয়েকটি ধারা এবং সুপ্রিম কোর্টের কিছু রায়ের সঙ্গে সম্পূর্ণ সঙ্গতিপূর্ণ হবে না।
রাজভবন বিল ফিরিয়ে দেওয়া নিয়ে রাজ্য সরকারের তরফে এ দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া দেওয়া না হলেও তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ মনে করছেন, নারীদের উপর হওয়া অত্যাচার রুখতে রাজ্য সরকার বিল এনেছিল। সেই বিল ফিরিয়ে দেওয়া দু:খজনক। অন্যদিকে, তৃণমূলকে আক্রমণ করেছে সিপিএম। দলের নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘যেভাবে এই বিল আনা হয়েছিল তা দেখে আমাদের মনে হয়েছিল দেশে ধর্ষকদের শাস্তি দেওয়ার কোনও আইন নেই। অথচ বিল আনার দু’মাসের মধ্যেই পুরনো আইন অনুযায়ী ধর্ষণের দু’টি ঘটনায় সাজা হয়েছে। এই বিল আনার কোনও প্রয়োজনই ছিল না। আমরা তখনই বলেছিলাম এভাবে বিল আনা বোগাস।’
গত বছর আরজি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার মাসখানেকের মধ্যে এই বিল পাশ করে রাজ্য বিধানসভা। তারপর রীতি মেনে বিলটি রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধানের কাছে পাঠানো হয়। সেখান থেকে রাষ্ট্রপতির কাছে যায় বিল। দিল্লিতে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে বিলে দ্রুত অনুমোদন দেওয়ার আবেদনও জানান তৃণমূল সাংসদরা। কিন্তু প্রায় বছরখানেক বাদে সেই বিলে অনুমোদন না দিয়ে আবারও বিবেচনা করতে রাজ্যের কাছে ফেরত পাঠানো হল। রাজভবনের একটি সূত্র সংবাদসংস্থাকে জানিয়েছে, অপরাজিত বিল নিয়ে পর্যালোচনা করে কেন্দ্রীয় সরকারের মনে হয়েছে, এখানে বিএনএসের বেশ কয়েকটি ধারায় পরিবর্তন আনার কথা বলা হয়েছে।
বিলের একটি অংশে ধর্ষণের জন্য আমৃত্যু কারাদণ্ডের কথা বলা আছে। কিন্তু বিএনএস অনুযায়ী অপরাধ প্রমাণিত হলে ধর্ষকের সর্বনিম্ন সাজা হবে ১০ বছর। এই পরিবর্তনে অখুশি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। শাস্তি বাড়ানোর এই প্রক্রিয়াকেই নিষ্ঠুর বলে মনে করছে মন্ত্রক। আরেকটি অংশ নিয়েও আপত্তি তুলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। ১৬ এবং ১২ বছরের কম নাবালিকাদের ধর্ষণের ক্ষেত্রে বিএনএসে আলাদা করে শাস্তির কথা বলা আছে। অপরাজিতা বিলে তেমন কিছু নেই।
