বাংলা ভাষায় কথা বললেই ডিপোর্ট!ফুঁসে উঠলেন মমতা


দিন দর্পণ, 17 জুলাইঃ বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাংলাভাষীদের চলছে লাগাতার হেনস্তা। কখনও আটক করা হচ্ছে, কখনও ঠেলে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে বাংলাদেশে। বাঙালি জাত্তিসত্তার উপরে ওই আক্রমণের প্রতিবাদে বুধবার রাজপথে নেমেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার ফের সরব হলেন তিনি। বাংলা ও বাঙালি জাতিসত্তার উপরে গেরুয়া শিবিরের আক্রমণের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেছেন, ‘বাংলায় কথা বললেই বাংলাদেশি হয়ে যায়? বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাংলায় কথা বললেই বাংলাদেশি আখ্যা দিয়ে ধরে ধরে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বার বার বলছি, বাংলাভাষীদের উপরে নির্যাতন চালাবেন না। আঘাত করলে প্রত্যাঘাত যে কী হতে পারে, সেই ধারণা নেই।’

এ দিন নিউটাউনে সরকারি মঞ্চ থেকে ফের এক হাত দিলেন কেন্দ্রকে। তিনি বলেন, ‘ওরা জানে না, বাংলা ভাষায় কথা বলার সংখ্যাটা সারা এশিয়ায় দ্বিতীয়। আর সারা পৃথিবীতে পঞ্চম’। তাঁর সাফ কথা, ‘আমাদের এখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয়, তাঁরা দক্ষ মজদুর। তাঁরা না থাকলে, তাঁদের কাজ হবে না বলে নিয়ে যায়। দয়া করে নয়। আমাদের এখানে দেড় কোটি বাইরে রাজ্যের লোক কাজ করে। আমরা খুশি, তাঁরা কাজ করে’। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মানুষে ভেদাভেদ করি না। সব ভাষাতে সম্মান করি। কিন্তু ভাবতে পারেন, আজকে একটি নোটিফিকেশন করে বলছে, বাংলার ভাষায় কথা বললেই তাঁদের ডিপোর্ট করে দাও। ভারতে যে যেখানে খুশি যেতে পারে। সে ভারতের নাগরিক। যাঁদের পাচ্ছে, বাংলা কথা বললেই বলে দিচ্ছে বাংলাদেশি আর রোহিঙ্গা! কোথা থেকে এল রোহিঙ্গা! রোহিঙ্গা তো মায়ানমার। ওরা বাংলাটা জানল কোথা থেকে। যাঁরা বলছেন, তাঁরা বুঝবেন না’! বাংলাদেশের শেষ চ্যাপ্টার ১৯৭১ সালের মার্চ।  যখন ইন্দিরা-মুজিব চুক্তি হয়েছিল, উদ্বাস্তু হয়ে এসেছিল’।

গোটা দেশ জুড়ে এখন ‘বাংলাদেশি’ খুঁজে বের করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সেই অজুহাতেই টার্গেট ভিনরাজ্যে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকরা। ওড়িশাই হোক কিংবা দিল্লি বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলি বাংলা বললেই অত্যাচারিত হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের শেষ চ্যাপ্টার ১৯৭১ সালের মার্চ।  যখন ইন্দিরা-মুজিব চুক্তি হয়েছিল, উদ্বাস্তু হয়ে এসেছিল। সবকিছু হারিয়ে আমাদের দেশে ফিরে এসেছিল, তাঁরা তো ভারতের নাগরিক। এখন আসতে পারে না। আমাদের অতিথি কয়েকজনকে তো রেখেছে ভারত সরকার, আমি কি না বলেছি! কারণ, রাজনৈতিক কারণ আছে। ভারত সরকারে অন্যন্য কারণ আছে। পার্শ্ববর্তী দেশ বিপদে পড়েছে’। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘আমরা তো বলি না, আপনারা কেন বলবেন, বাংলায় কথা বললেই বাংলাদেশি হয়ে গেল। যাঁরা বাংলাদেশি আগে জন্মেছিল, তখন অবিভক্ত ভারত দেশ ছিল। তাঁদের অভ্যাসটা রয়ে গিয়েছে কথা বলার। তাঁরা বাংলাদেশি নয়, ভারতের নাগরিক’। সঙ্গে কটাক্ষ, ‘রাজনীতি করতে হলে প্রথমে আপনার মনটা ঠিক করতে হবে। রাজনীতির লোকেরাই সরকার চালায়। রাজনীতি সঠিক না হলে ভালো সরকার চালানো যায় না। মাথাটাকে ব্যবহার করতে হয়। মগজ মরুভূমি হলে হয় না’। 


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *