দিন দর্পণ, ১৭ জুলাইঃ কেন্দ্রীয় সরকার আবাসের টাকা না দিলে কি হবে, রাজ্যের নিম্ন আয়ের মানুষকে তাদের সামর্থ্যরে মধ্যে বাড়ি তৈরি করে দেবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাও আবার নিউ টাউনের মতো জায়গায়! নিউটাউনেও এবার সরকারি আবাসন। অর্থনৈতিকভাবে অনগ্রসর ও স্বল্পবিত্ত নাগরিক লটারির মাধ্যমে ফ্ল্যাট বিলি করবে রাজ্য সরকারই। বৃহস্পতিবার নিউটাউনে দুটি আবাসন প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা, ‘জমি কিন্তু সরকার দিয়েছে। জমির দাম নেওয়া হয়নি। এছাড়াও ভর্তুকি দিয়ে বাজারের থেকে অনেক কম দামে ফ্ল্যাট পাবেন’। ‘নিজন্ন’ আর ‘সৃজন্ন’।
এ দিন কেন্দ্রের আর্থিক বঞ্চনার বিরুদ্ধে ফের সুর চড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিউটাউনে নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য নির্মিত আবাসন প্রকল্পের উদ্বোধনে গিয়ে মোদি সরকারকে এক হাত নিয়ে তিনি বলেন, ‘একশো দিনের কাজের নিরিখে দেশের মধ্যে এগিয়ে বাংলা। আবাস যোজনাতেও এগিয়ে পশ্চিমবঙ্গ। তবুও আবাস যোজনার জন্য টাকা দিচ্ছে না কেন্দ্র। রাজ্য সরকার নিজের টাকাতেই ওই প্রকল্প চালিয়ে যাচ্ছে। ৪৫ লক্ষ মানুষকে ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে মাথার উপরে ছাদ গড়ে দিয়েছে।’ নিউটাউনে গরিবদের জন্য দুই আবাসন গড়ে তোলার বিষয়টি উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘নবান্নের সঙ্গে নাম মিলিয়েই নিউটাউনে ‘নিজন্ন’ ও ‘সুজন্ন’ তৈরি করা হয়েছে। আবাসন গড়তে বিনামূল্যে ৭ একর জমি দিয়েছে রাজ্য সরকার। আবাসন নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ২৯০ কোটি টাকা। দুটি আবাসন মিলিয়ে রয়েছে মোট ১২১০ টি ফ্ল্যাট। এর মধ্যে ‘নিজন্ন’ তৈরি হয়েছে আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা দুর্বল শ্রেণির জন্য। এই আবাসনটিতে ৩০০ স্কোয়ার ফিটের ৪৯০টি এক রুমের ফ্ল্যাট রয়েছে। আর স্বল্পবিত্ত, তুলনামূলক কম রোজগেরেদের জন্য গড়া হয়েছে ‘সুজন্ন’। বহুতল ওই আবাসনে ৬২০ স্কোয়্যার ফিটের ৭২০টি ২বিএইচকে ফ্ল্যাট রয়েছে। দুটি আবাসনে অনেক মানুষের মাথাগোঁজার ঠাঁই হবে। বিক্রি হবে লটারির মাধ্যমে। বাজারদরের তুলনায় অনেক সস্তায় মিলবে এই ফ্ল্যাট।’ রাজ্যের প্রতিটি গৃহহীন মানুষের মাথার উপরে ছাদ গড়ে দেওয়া-ই যে সরকারের লক্ষ্য সেকথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই প্রত্যেক মানুষের মাথার উপর নিজস্ব ছাদ থাকুক, নিজের আশ্রয় থাকুক। আমরা চেষ্টা করেছি, কয়েক বছরের মধ্যে ৪৫ লক্ষ বাড়ি করেছি গ্রামীণ আবাস যোজনায়। পাঁচ বছর পর পর এক নম্বরে ছিলাম আমরা।’ এর পরেই কেন্দ্রের আর্থিক বঞ্চনা নিয়ে সরব হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আবাস যোজনা, গ্রামীন সড়ক যোজনাতে দেশের মধ্যে বাংলা এক নম্বরে ছিল। গত চার-পাঁচ বছরে এক পয়সাও দেয়নি কেন্দ্র। এখন সব বন্ধ। পাওনা টাকা পাচ্ছি না। তার পরও ১২ লক্ষ বাংলার বাড়ির টাকা রাজ্যের কোষাগার থেকে দেওয়া হয়েছে। ১৬ লক্ষ মানুষ আরও যাঁরা তালিকায় আছেন, ডিসেম্বরে এক কিস্তি পেয়ে যাবেন, দ্বিতীয় কিস্তি পাবেন মে মাসে। বাকি যা থাকবে, ধাপে ধাপে করে দেব।’
অন্যদিকে, বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টার ও রূপার পাশের নবনির্মিত ভবনের সঙ্গে আধুনিক বহুতল পার্কিং কমপ্লেক্স সুসম্পন্ন। এই পার্কিং কমপ্লেক্সে থাকবে, ৮ তলা গাড়ি রাখার ব্যবস্থা, প্রায় ১৫০০ গাড়ির ধারণক্ষমতা, অত্যাধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
এছাড়া তরন্ন প্রকল্পে থাকবে বিনোদন সুবিধা। যেখানে থাকবে ২০০ আসনবিশিষ্ট মুক্তমঞ্চ, শিশুদের জন্য বিনোদন পার্ক, সুন্দরভাবে সাজানো সবুজ পরিবেশ। প্রশাসনের দাবি, এই প্রকল্প শুধুমাত্র আবাসন নয়, মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে সব ধরনের সুবিধা নিশ্চিত করছে।
