দিন দর্পণ, 16 জুলাইঃ জলে পড়ে সাত বছরের মেয়ের মৃত্যুকে তার বাবা দুর্ঘটনা বলে চালিয়েছিলেন। কিন্তু বাচ্চা মেয়েটির মৃত্যুর একমাস পরে তার মা দাবি করলেন তাঁর কন্যা সন্তানকে তার স্বামীই খুন করেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে গুজরাতে।
গত ১০ জুন গুজরাতের খেরার বাসিন্দা বিজয় সোলাঙ্কি এবং অঞ্জনা সোলাঙ্কির কন্যা ভূমিকার মৃত্যু হয়। পুলিশ নর্মদা খাল থেকে সাত বছরের মেয়েটির দেহ উদ্ধার করে। স্বামী-স্ত্রী দুজনেই পুলিশকে জানিয়েছিলেন খালে মাছ দেখতে গিয়ে তাঁদের বড় মেয়ে পা ফস্কে জলে পড়ে যায়। তবে মঙ্গলবার সন্তানহারা মা অঞ্জনা পুলিশের কাছে গিয়ে আসল তথ্য জানিয়ে বলেন, মেয়েকে খুন করেছেন তাঁর স্বামী। কারণ স্বামী পুত্র সন্তান চান।একমাস ধরে এই মানসিক যন্ত্রণা তিনি লুকিয়ে রেখেছিলেন, কাউকে বলতে পারেননি। কিন্তু আর লুকিয়ে রাখতে পারছেন না। পুলিশকে অঞ্জনা জানান কন্যা সন্তান ভূমিকার জন্মের পর থেকেই স্বামী তাঁকে খোঁটা দিতে থাকেন। কারণ তিনি পুত্র সন্তান চান, কন্যা চান না। খেরা জেলার পুলিশ সুপার রাজেশ গঢ়িয়া বলেন, মহিলার দাবি অনুযায়ী ১০ জুন ছোট মেয়েকে বাড়িতে রেখে বড় মেয়েকে নিয়ে তারা বেড়াতে বেরিয়েছিলেন। নর্মদা খালের কাছে বাইক থামিয়ে তিনজন নেমে পড়েন এবং সেই সময় মেয়েকে খালে ফেলে দেন তাঁর স্বামী বিজয়। অঞ্জনা আরও জানান, খুনের পর স্বামী তাঁকে চুপ থাকতে বলেন। তাঁর কথায়, ‘আমাকে বলেছিল ছেলে যখন দিতে পারোনি চুপ থাকো। কাউকে এ নিয়ে কথা বললে ডিভোর্স দেব।’ পরবর্তীকালে তিনি স্বামীর কাছ থেকে বাপের বাড়ি চলে যান এবং সেখান থেকেই থানায় গিয়ে সমস্ত কথা জানান। তাঁর আরও দাবি, ১১ বছরের দাম্পত্য জীবনে তিনি বহু দুর্ব্যবহার পেয়েছেন। তাঁর দ্বিতীয় সন্তানও মেয়ে হওয়ায় স্বামীর অত্যাচার বেড়ে যায়। এমনকী বড় মেয়েকে খুনের পরেও তিনি মুখ বুঁজেছিলেন। তবে ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায়। স্বামীর বিরুদ্ধে তিনি থানায় অভিযোগ জানান। অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর স্বামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ এবং সমস্ত ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
