সিবিএসই’র ফলাফলেও দাপট আল আমীনের


মিজানুর রহমান, দিন দর্পণ: বাংলা মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের পাশাপাশি ইংরেজি মাধ্যম (সিবিএসই) বোর্ডেও কর্তৃত্ব বজায় রাখল আল আমীন মিশনের পড়ুয়ারা। সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন (সিবিএসই)’র মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় মিশনের ১০০ শতাংশ পড়ুয়াই উত্তীর্ণ হয়েছে। মাধ্যমিকে সর্বোচ্চ ৯৯ শতাংশ নম্বর পেয়েছে মিশনের খড়্গপুর শাখার পড়ুয়া তামিম ইসলাম। উচ্চ মাধ্যমিকে আল-আমীন মিশনের বজবজ শাখার মাসাদুর হোসেন ৯২.৪ শতাংশ নম্বর পেয়ে মিশনের পড়ুয়াদের মধ্যে প্রথম হয়েছেন। পড়ুয়াদের এই সাফল্যে স্বাভাবিকভাবে খুশি আল-আমীন মিশনের সাধারণ সম্পাদক এম নুরুল ইসলাম থেকে শুরু করে মিশন কর্তৃপক্ষ।

আল আমীন মিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, এবছর মিশনেরমোট ৩১৪ জন পড়ুয়া মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছিল। তাদের মধ্যে তাদের মধ্যে ছাত্রের সংখ্যা ২৩১ জন। আর ছাত্রীর সংখ্যা ৮৩ জন। প্রত্যেকেই উত্তীর্ণ হয়েছে। মিশন পড়ুয়াদের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছে উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের চাঁপাডালির বাসিন্দা তানিম ইসলাম। বেস্ট ফাইভ অনুযায়ী তার তার প্রাপ্ত নম্বর ৪৯৫। শতাংশের হিসাবে ৯৯ শতাংশ। তানিম প্রথম ভাষায় ৯৬, ইংরেজিতে ৯৭, অঙ্কে ১০০, ভৌত বিজ্ঞানে ৯৮, জীবন বিজ্ঞানে ১০০, ইতিহাসে ১০০ পেয়েছে। আগামী দিনে জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষা দিয়ে ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন দেখছে তানিম। সেই লক্ষ্যে ইতিমধ্যে একটি বেসরকারি সংস্থায় প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে তানিম। তবে তার এই সাফল্যে মিশনের ভূমিকা অতুলনীয় বলে জানিয়েছে তানিম। তার কথায়, ‘মিশনেরপড়াশোনার পরিবেশ অসাধারণ। মিশনে শিক্ষকদের সহযোগিতা, বন্ধুদের সঙ্গে গ্রুপ স্টাডিজ করে অনেকটাই উপকৃত হয়েছি। আল-আমীন মিশন না থাকলে এই ফল সম্ভব হযত না।

৯৮.২০ শতাংশ নম্বর পেয়ে আল-আমীন মিশনের পড়ুয়াদের মধ্যে দ্বিতীয় স্থান দখল করেছে মুর্শিদাবাদের রিমন আখতার। সেও মিশনের খড়্গপুর শাখার পড়ুয়া। বেস্ট ফাইভ অনুযায়ী রিমন পেয়েছে ৪৯১। প্রথম ভাষায় রিমন পেয়েছে ৯২, ইংরেজিতে ৯৬, অঙ্কে ১০০, ভৌত বিজ্ঞানে৯৮, জীবন বিজ্ঞানে ৯৮, ইতিহাসে ৯৯ পেয়েছে। রিমনের লক্ষ্য ডাক্তার হওয়া। সেই লক্ষ্য নিয়ে কলকাতায় একটি বেসরকারি সংস্থায় মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট-এর কোচিং শুরু করে দিয়েছে রিমন। তারও এই সাফল্যে মিশনের ভূমিকা অপরিসীম বলে জানিয়েছে রিমন। তবে খড়্গপুর শাখায় বেশ কিছু বিষয়ে শিক্ষকের সমস্যা রয়েছে বলে জানিয়েছে সে। তার কথায়, আমার সাফল্যের পেছনে মিশনের ভূমিকা অসামান্য। আল আমীন মিশন ছাড়া এই ফল কখনও সম্ভব হত না। তবে মিশনে বেশ কিছু শিক্ষকের সমস্যা রয়েছে। কর্তৃপক্ষকে বার বার জানিয়েও সুরাহা হয়নি। পর্যাপ্ত শিক্ষক থাকলে হয়তো ফল আরও ভালো হতে পারত।

৪৯০ নম্বর পেয়ে খড়্গপুর শাখারই পড়ুয়া নাসিম ইকবাল তৃতীয় হয়েছে। রিমনের মতোই নাসিমও আগামী দিনে ডাক্তার হয়ে দুস্থ মানুষদের সেবা করতে চায়। সেই লক্ষ্যে নিট-এর প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে নাসিম।

মিশনের পড়ুয়াদের মেয়েদের মধ্যে সম্ভাব্য প্রথম তথা নবম হয়েছে ইশরাত জাহান। বীরভূমের বাসিন্দা ইশরাত মিশনের বীরভূম শাখায় পড়াশোনা করত। তার প্রাপ্ত নম্বর ৪৮২ (৯৬.৪০ শতাংশ)। ইশরাত প্রথম ভাষায় ৯৭, ইংরেজিতে ৯২, অঙ্কে ৮৭, ভৌত বিজ্ঞানে ৯৬, জীবন বিজ্ঞানে ১০০, ইতিহাসে ৯৭ পেয়েছে।

উচ্চ মাধ্যমিকেও দুর্দান্ত সাফল্য পেয়েছেন আল আমীন মিশনের পড়ুয়ারা। জানা গিয়েছে, মিশনের মোট ১২২ জন পড়ুয়া এবারে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছিল। প্রত্যেকেই উত্তীর্ণ হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৮৫ শতাংশ বা তার বেশি নম্বর পেয়েছেন প্রায় ২০ জন পড়ুয়া। ৯২.৪ শতাংশ নম্বর পেয়ে মিশনের পড়ুয়াদের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছে বজবজের পড়ুয়া মাসাদুর হোসেন। মুর্শিদাবাদের বঢ়ঞ্যার মাসুদের স্বপ্ন চিকিৎসক হওয়ার। সেই লক্ষ্যেই নিট পরীক্ষা দিয়েছেন তিনি। যদিও আশানূরুপ ফল নিয়ে সংশয় রয়েছে তাঁর। তাই আগামী দিনে নিট উত্তীর্ণ হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ফের প্রস্তুতি শুরু করেছেন। তার সাফল্যের পেছনেও আল আমীন মিশনের অবদান রয়েছে বলে জানিয়েছেন মাসাদুর। তাঁর কথায়, মিশনে পড়ুয়াদের মোবাইলের অনুমোত নেই। এছাড়া শিক্ষকরা সর্বদা পড়ুয়াদের প্রতি নজর রাখেন। পাশাপাশি বন্ধুরা মিলিয়ে যে গ্রুপ স্টাডি হয়, মিশন ছাড়া তা কোথাও সম্ভব হত না। ফলে এই সাফল্যে মিশনের ভূমিকা অপরিসীম।

মেয়েদের মধ্যে সম্ভাব্য প্রথম ও মিশনের দ্বিতীয় হয়েছেন ফাহমিদা খাতুন। নদিয়ার বাসিন্দা ফাহমিদা পেয়েছেন ৪৬১ নম্বর। মিশনের সাঁতরাগাছি ক্যাম্পাস থেকে পড়াশোনা করেছেন ফাহমিদা। আগামী দিনে তিনিও চিকিৎসক হতে চাইছেন। সেই লক্ষ্যেই নিট-এর প্রস্তুতি শুরু করেছেন ফাহমিদা। খড়্গপুর ক্যাম্পাসের সায়ন মন্ডল ৪৬০ নম্বর পেয়ে মিশনের তৃতীয় হয়েছে। তারও লক্ষ্য চিকিৎসক হওয়া।

মিশনের এই ফলাফলে স্বাভাবিকভাবে উচ্ছ্বসিত সাধারণ সম্পাদক এম নুরুল ইসলাম থেকে শুরু করে শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীরা। এম নুরুল ইসলাম বলেন, ‘মিশনের শিক্ষক-শিক্ষিকারা যেভাবে পড়ুয়াদের গাইড করেন বা এই উন্নত প্রযুক্তির যুগেও যেভাবে পড়ুয়াদের মোবাইল ব্যবহারের প্রতি কড়া নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, এই সাফল্যের চাবিকাঠি হল সেটাই। আগামী দিনে মিশনের পড়ুয়ারা আরও ভালো ফল করবে বলে আমরা আশা করছি’।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *