দিন দর্পণ, ২মে, কলকাতাঃ শহরে আর কোনও রুফটপ রেস্তরাঁ তৈরি করা যাবে না, বড়বাজারের অগ্নিকান্ডের ঘটনার পরে এমনটাই জানিয়ে দিলেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম।তিনি জানিয়েছেন, রাজ্য সরকার গঠিত কমিটির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা অবধি সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে যাবতীয় রুফটপ রেস্তরাঁ।
শুক্রবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ফিরহাদ জানিয়েছেন, আপাতত ছাদের জায়গা কমানো হয়েছে।নোটিফিকেশনও ইতিমধ্যেই জারি হয়ে গিয়েছে।এই মুহূর্তে যে যে রেস্তরাঁ চালু রয়েছে তাও আপাতত পুরোপুরি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।তিনি জানান, ‘পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মাকে অনুরোধ করেছি, যাতে তিনি সমস্ত রুফটপ রেস্তরাঁর নামের তালিকা দেন।আমরা রেস্তরাঁগুলোকে নোটিস পাঠিয়ে দেব।’তিনি জানিয়েছেন বড়বাজারে যে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল, সেই বিষয়টা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বস্তুত, মঙ্গলবার রাতে বড়বাজারের মেছুয়ার ফলপট্টির ওই হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১৪ জনের মৃত্যু হয়।ঘটনার পর থেকেই হোটেলের সুরক্ষা ব্যবস্থায় নানা গাফিলতি প্রকাশ্যে এসেছে।মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, হোটেলে দাহ্য পদার্থ মজুত ছিল।হোটেলের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।বুধবার ঘটনাস্থলে গিয়ে দমকলের ডিজি রণবীর কুমার জানান, ওই হোটেলের ‘ফায়ার লাইসেন্স’-এর মেয়াদ শেষ হয়েছিল তিন বছর আগেই।তার পর তা আর নবীকরণ করেনি হোটেল কর্তৃপক্ষ।হোটেলে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা থাকলেও অগ্নিকাণ্ডের সময় সেটি কাজ করেনি।
যদিও দমকলের প্রাথমিক অনুমান, আদৌ অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা কার্যকর ছিল না ওই হোটেলে।দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডের সময় হোটেলে ‘ফায়ার অ্যালার্ম’ও বাজেনি।হোটেলের দোতলায় প্লাইউডের কাজ চলছিল, সেখান থেকেই আগুন লেগেছে বলে মনে করছেন দমকল আধিকারিকরা।অতিরিক্ত ধোঁয়া থাকায় তিনতলা কিংবা চারতলায় থাকা আবাসিকেরা হোটেলের নীচে নামতে পারেননি।একজন তো প্রাণে বাঁচতে ঝাঁপও দেন।
এমন পরিস্থিতিতেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, কেন উপরের তলাগুলিতে থাকা জানলা দিয়ে ধোঁয়া বেরোতে পারল না।হোটেলটিতে কেন্দ্রীয় বাতানুকূল ব্যবস্থা বা সেন্ট্রাল এসি নেই।তা সত্ত্বেও কেন অধিকাংশ জানলা বন্ধ ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।এমন পরিস্থিতিতেই কলকাতার যাবতীয় রুফটপ রেস্তরাঁ বন্ধের সিদ্ধান্ত নিল কলকাতা পুরসভা।
