দিন দর্পণ, ৩০এপ্রিল, দিঘাঃ বুধবার অক্ষয় তৃতীয়ার দিন জগন্নাথ মন্দিরের দ্বারোদঘাটন উপলক্ষে অনুষ্ঠান শুরু হয়ে গিয়েছে।কয়েক দিন থেকেই দিঘাকে নতুন ভাবে সেজে উঠতে দেখা গেছে।গত সোমবার থেকেই দিঘায় রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।মঙ্গলবার দিন পূর্বসূচি অনুযায়ী মহাযজ্ঞ সম্পন্ন হয়েছে।ওই দিনেই মন্দিরের ধ্বজাও উড়েছে।দিঘা এখন শুধুমাত্র সৈকত নগরী নয়।দিঘা এখন থেকে জগন্নাথ ধাম।অক্ষয় তৃতীয়ার দিন প্রাণপ্রতিষ্ঠা ও দ্বারোদঘাটন অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর আমন্ত্রনে উপস্থিত হয়েছেন টলিপাড়ার একঝাঁক তারকা।জগন্নাথধামের উদ্বোধন উপলক্ষে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন সঙ্গীতশিল্পী নচিকেতা চক্রবর্তী, অদিতি মুন্সি, রূপঙ্কর বাগচি, ইমন চ্যাটার্জি,নৃত্যশিল্পী ডোনা গাঙ্গুলি-সহ আরও অনেকে।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর পাশে দেখা গেল প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় ও দেব-কে।এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, জুন মালিয়া, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, লাভলি মৈত্র, জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়,শ্রীকান্ত মোহতা, অরিন্দম শীল, প্রমুখ রয়েছেন দিঘায়।জগন্নাথদেবের টানে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছেন টেলিপর্দার তারকারাও। দেখা গেল দেবলীনা কুমার, ভিভান ঘোষকে।
এদিনের অনুষ্ঠানে দেবের মন্তব্য, ‘‘সম্প্রীতির ঐতিহাসিক মিলনক্ষেত্র দিঘায় জগন্নাথধামকে সাক্ষী রেখে মুখ্যমন্ত্রী গোটা দেশকে বার্তা দিয়েছেন।আসলে দিঘায় এখন পর্যটনের সঙ্গে আধ্যাত্মিকতার মিলন ঘটেছে বঙ্গোপসাগরের সৈকতভূমিতে।বিভেদ উড়িয়ে বাংলা থেকে ফের সম্প্রীতির নিশান উড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বুঝিয়ে দিয়েছেন, বাংলা চিরকাল দেশকে পথ দেখিয়েছে, এবারও মুখ্যমন্ত্রী সেই পরম্পরা বজায় রেখেছেন।’’মন্দির উদ্বোধনে আমন্ত্রিত বিশিষ্ট অতিথিদের এই চা-চক্রে বাংলা-মুম্বইয়ের শিল্পীরা যেমন ছিলেন, তেমনই ছিলেন কবি-সাহিত্যিক, বণিকসভা ও ময়দানের ক্রীড়াকর্তারাও।
এদিনই মুখ্যমন্ত্রী দিঘায় উপস্থিত পুণ্যার্থী ও পর্যটকদের উদ্দেশে ঘোষণা করেন, আনুষ্ঠানিক দ্বারোদঘাটনের পরই সাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে মন্দির।পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট বলেন, ভবিষ্যতে পর্যটনের দিক থেকে দিঘা আন্তর্জাতিক কেন্দ্র হিসাবে চিহ্নিত হবে।মন্দিরের স্থাপত্য বা নির্মাণের কৌশল দেখে আপ্লুত মুখ্যমন্ত্রী।তিনি বলেই দেন, এত সুন্দর স্থাপত্য ও কাজ এত সুন্দর-নিখুঁত হয়েছে যে বলার নয়।সব সম্প্রদায়ের মানুষ এসেছেন।মুখ্যমন্ত্রী বারবার বলেন, যতটা সম্ভব পেরেছি, করেছি।বছর সাতেক আগে তিনি এই সমুদ্রসৈকতেই হাঁটতে হাঁটতে ভেবেছিলেন জগন্নাথ মন্দির স্থাপনের ভাবনা।তাঁর মনে হয়েছিল, পুরীর মতো অনবদ্য সৈকত-ঐতিহ্য, শিল্প-সাংস্কৃতি সবটাই দিঘায় রয়েছে।অক্ষয়তৃতীয়ার পুণ্যলগ্নে সেই স্বপ্নই পূরণ হল।মন্দির উদ্বোধনের সাক্ষী থাকতে রাজ্যের বহু পুণ্যার্থী হাজির সৈকত শহরে।
