দিন দর্পণ, ২৯এপ্রিল, দিঘাঃ আর মাত্র কিছুক্ষণের অপেক্ষা।বুধবার অক্ষয়তৃতীয়ার দিনেই দ্বারোদঘাটন হবে দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের।শুরু হয়েছে মহাযজ্ঞ।সেখানে উপস্থিত রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং।কলিঙ্গ শৈলীতে তৈরি জগন্নাথদেবের মন্দিরটি পুরীর মন্দিরের আদলে তৈরি।গত রবিবার বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে পুরীর নিয়মে দিঘায় জগন্নাথ দেবের প্রাণপ্রতিষ্ঠায় শুরু হয় আচার-অনুষ্ঠান।মঙ্গলবার শাস্ত্রীয় মতে শুরু হয় পুজোপাঠ ও হোমযজ্ঞ।জগন্নাথদেবের মূল মন্দিরের সামনে হোমযজ্ঞ করার জন্য তৈরি করা হয়েছিল অস্থায়ী আটচালা ঘর।মঙ্গলবার থেকে সেখানেই দু’বেলা পুজো এবং হোমযজ্ঞ চলছে।পুরীর মন্দির থেকে ৫৭ জন জগন্নাথদেবের সেবক এবং ইসকন থেকে ১৭ জন সাধু তাতে শামিল হয়েছেন।
জগন্নাথ মন্দিরের শুভ অনুষ্ঠানে সাক্ষী থাকতে মঙ্গলবারেই দিঘায় পৌঁছান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুয়ায়ী, ২৯ তারিখ বিশ্বশান্তির জন্য শুরু হয় মহাযজ্ঞ।১০০ কুইন্টাল আম ও বেলকাঠ এবং ২ কুইন্টাল ঘি পোড়ানো হয়।এদিন মহাযজ্ঞে প্র্ণূাহুতি দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।নিজের হাতে আরতিও করেন। বললেন, মা-মাটি- মানুষের জন্য পুজো দিয়েছেন।মমতার কথায়, ‘মা-মাটি-মানুষ ভালো থাকলেই আমি ভালো থাকব’।
নির্দিষ্ট সূচি অনুযায়ী আগামিকাল ৩০এপ্রিল, মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে মন্দিরের দ্বারোদঘাটন ও জগন্নাথ দেবের প্রাণপ্রতিষ্ঠা হবে।পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের বিধান অনুযায়ী তা করবেন পুরীর রাজেশ দৈতাপতি।মন্দির উদ্বোধনের সাক্ষী থাকতে জেলা, রাজ্য, প্রতিবেশী রাজ্যের বহু পুণ্যার্থী যাবেন সৈকত শহর দিঘায়।মন্দিরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রয়েছেন তৃণমূলের একঝাঁক নেতা, সাংসদ, বিধায়ক।সঙ্গে তৃণমূলের তারকা সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে জুন মালিয়া, বিধায়ক সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ।মূল যজ্ঞমঞ্চের অদূরে মঞ্চে দেখা গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর ভাই বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায়কেও।টলিউডের নামী প্রযোজক শ্রীকান্ত মোহতা, গায়ক নচিকেতা চক্রবর্তী, অভিনেতা ও চিত্রপরিচালক অরিন্দম শীল, দেবলীনা কুমার, শিল্পপতি রুদ্র চট্টোপাধ্যায় প্রমুখকে দেখা গিয়েছে মন্দিরের কাছে তৈরি মঞ্চে।সাধারণ মানুষের যাতে কোনও অসুবিধা না হয় তার জন্য ট্রাফিক ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হয়েছে।যাঁরা মন্দির দর্শনে যাবেন, তাঁরা ওল্ড দিঘা থেকে ১১৬ বি জাতীয় সড়ক ধরে তিন কিলোমিটার হেঁটে মন্দিরে পৌঁছতে পারবেন।নিউ দিঘা বাস ডিপো থেকে আসবেন তাঁরাও, ১১৬ বি জাতীয় সড়ক ধরে শনিমন্দিরের সামনে দিয়ে হেঁটে যাওয়া যাবে।
