গঙ্গার ভাঙন রুখতে এবার ম্যানগ্রোভের চারা রোপণ বি-গার্ডেনে


দিন দর্পণ, ২৮এপ্রিল, হাওড়াঃ পরিবেশ দূষণের দিক থেকে রাজ্যের মধ্যে প্রথম সারিতে হাওড়ার অবস্থান।হাওড়া শহরের পরিবেশ দূষণ ও ক্রমবর্ধমান গঙ্গার ভাঙন রুখতে এবার তৎপর শিবপুর বোটানিক্যাল গার্ডেন।হাওড়া শহরের ফুসফুস বলা হয় বি গার্ডেনকে।বি গার্ডেনে গঙ্গার ধারে প্রায় ৫০০ মিটার এলাকা জুড়ে বসানো হল ম্যানগ্রোভ গাছের চারা।নদীর ধারেই বেড়ে উঠবে গাছগুলি।পরিবেশবিদদের মতে, এই ম্যানগ্রোভ গাছ গুলির ফলে গঙ্গার জলে বেড়ে চলা দূষণ রোধ করা সম্ভব হবে।পাশাপাশি ঝড়বৃষ্টির  মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও গঙ্গার ভাঙন আটকাতেও এই ম্যানগ্রোফ কার্যকরী হবে।

সম্প্রতি গঙ্গার ভাঙনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল বি গার্ডেনের জমি।বি গার্ডেনের কিছু শতাংশ জমি গঙ্গার তলায় তলিয়ে গিয়ে বাগানের প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।এই জমি তলিয়ে যাওয়ায় বহু দুর্লভ গাছও তলিয়ে গিয়েছে।ধ্বংসলীলা রুখতে সম্প্রতি বি গার্ডেন কর্তৃপক্ষ গঙ্গার ধারে ম্যানগ্রোভের জঙ্গল তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেয়। বি গার্ডেন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গঙ্গার ধারে ৭ প্রজাতির লবণাম্বু গাছের চারা বসানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হাড়গোঁজা, পাইন, ওঁরাওঁয়ের মতো প্রজাতির ম্যানগ্রোভের চারা। কম লবণাক্ত জলে জন্মাতে পারে এমন সাতটি প্রজাতির প্রচুর ম্যানগ্রোভের চারা নিয়ে আসা হয়।

হাওড়ার জলে লবণাম্বু উদ্ভিদ বেড়ে উঠতে পারে কি? তা জানতে মাসকয়েক আগে পরীক্ষামূলকভাবে ম্যানগ্রোভের উৎপাদন শুরু করেন বি গার্ডেনের বিজ্ঞানীরা। আর তাতেই মিলেছে সাফল্য।গঙ্গার মাটিতে শ্বাসমূলের জাল বিছিয়ে ক্রমেই বড় হয়ে উঠছে ম্যানগ্রোভ।গড়ে উঠছে ম্যানগ্রোভের আদর্শ বাস্তুতন্ত্র।আরও বিশাল এলাকাজুড়ে ম্যানগ্রোভের জঙ্গল হবে বলে আশাবাদী বি গার্ডেন কর্তৃপক্ষ।বোটানিক্যাল গার্ডেনের জয়েন্ট ডিরেক্টর দেবেন্দ্র সিং বলেন, ‘‘গঙ্গার ভাঙন ও দূষণ রোধে বড় ভূমিকা নেবে ম্যানগ্রোভ।নদীর পাড়ে প্রাকৃতিকভাবেই গাছগুলো বেড়ে উঠছে।আরও এক কিলোমিটার অংশে ম্যানগ্রোভের চারা লাগানো হবে।’’

গঙ্গার ভাঙন সমস্যা দীর্ঘদিনের।শুধু বোটানিক্যাল গার্ডেন নয়, হাওড়ার বাউড়িয়া, শ্যামপুর গাদিয়াড়াতেও গঙ্গার ভাঙন ক্রমেই বাড়ছে।অনেক চেষ্টা করেও নদীর ভাঙন ঠেকানো যায়নি।নিত্যদিন হাওড়া শহরের প্রচুর দূষিত বর্জ্য গঙ্গায় ফেলা হয়।আশপাশের কারখানার বর্জ্যও মেশে গঙ্গায়।সেক্ষেত্রে বি গার্ডেনে গঙ্গার ধারে তৈরি হওয়া ম্যানগ্রোভ প্রাকৃতিক ফিল্টারের কাজ করবে।শুধু গঙ্গার ধারে নয়, অন্য এলাকাতেও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে লবণাম্বু উদ্ভিদের উৎপাদন বাড়াতে উদ্যোগী হয়েছে বি গার্ডেন কর্তৃপক্ষ।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *