শালবনি জিন্দল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের শিলান্যাস করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের


দিন দর্পণ, ২১এপ্রিল, শালবনিঃ সোমবার দুপুরে শালবনি জিন্দল গোষ্ঠীর তাপাবিদ্যুৎ প্রকল্পের শিলান্যাস করতে শালবনিতে পৌঁছান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।৮০০ মেগাওয়াটের দু’টি ইউনিট গড়ে তুলতে ১৬,০০০ কোটি টাকা লগ্নি করছে সজ্জন জিন্দলের সংস্থা জেএসডব্লিউ এনার্জি।এদিনের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় এছাড়াও জিন্দল গোষ্ঠীর শীর্ষকর্তারাও।সংস্থার সিইও শরদ মহেন্দ্র বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গে বহু দিন বাদে কোনও বিদ্যুৎকেন্দ্র গড়ে উঠছে।আগামী চার বছরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে।’’ এই প্রকল্পে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মিলিয়ে দু’হাজারের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হবে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনের (বিজিবিএস) মঞ্চে তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেছিলেন জিন্দল।প্রকল্পে উৎপাদিত বিদ্যুতের পুরোটাই ২৫ বছরের জন্য কিনে নেবে রাজ্য।এই মর্মে ইতিমধ্যে রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা এবং জেএসডব্লিউ এনার্জির চুক্তি হয়েছে।মহেন্দ্র জানান, রাজ্যে এখন বার্ষিক মাথাপিছু ৬০০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়।সর্বভারতীয় স্তরে যা ১২০০ ইউনিট। ফলে বিদ্যুতের ব্যবহার বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে।পাশাপাশি, রাজ্যে যে ভাবে নগরায়ণ ও তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্র প্রসারিত হচ্ছে, তাতে আগামী দশকে বিদ্যুতের চাহিদা কয়েক গুণ বাড়বে বলে মনে করছেন জিন্দল গোষ্ঠীর কর্তা।

মুখ্যমন্ত্রীর শালবনি সফর ঘিরে আঁটসাঁট নিরাপত্তার বন্দোবস্ত।পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যেই দফায় দফায় বৈঠক করছে, যাতে সব দিক থেকে প্রস্তুতি সম্পূর্ণ থাকে।সোমবার রাতে মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন মেদিনীপুর সার্কিট হাউসে। পরদিন ২২ এপ্রিল মঙ্গলবার তিনি মেদিনীপুর কলেজ মাঠে সরকারি অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন, যেখানে গোয়ালতোড়ের একটি সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট-সহ একাধিক নতুন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন।শালবনিতে পৌঁছোলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা।তাঁকে স্বাগত জানাতে হেলিপ্যাড গ্রাউন্ডে হাজির ছিলেন জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদরি, জেলা পুলিশ সুপার ধৃতিমান সরকার এবং সাংসদ জুন মালিয়া।শালবনিতে নেমেই মুখ্যমন্ত্রী প্রথমে যান জিন্দলদের কারখানার।কিছুক্ষণ, পরেই তিনি তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের শিলান্যাস করবেন।শালবনিতে তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের শিলান্যাস করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা।এরই সাথে ২০০০ একরের শিল্প পার্কেরও শিলান্যাস করলেন তিনি।মঞ্চে তাঁর সঙ্গে রয়েছেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, সজ্জন জিন্দল এবং তাঁর পুত্র পার্থ জিন্দল।

অনুষ্ঠানে সজ্জন জিন্দল বলেন, ‘‘শালবনিতে গত ১০ বছরে অনেক উন্নতি হয়েছে।এখানকার জমি কৃষকদের।তাই তাঁরা যাতে উপকৃত হন, সেটা আমাদের দেখতে হবে।এই তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রে কোনও দূষণ হবে না, এটা আমরা নিশ্চিত করব।এই রাজ্যে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে।তা মাথায় রেখেই এই তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র।পশ্চিমবঙ্গের উন্নতি হলে গোটা দেশের উন্নতি হবে।’’


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *