দিন দর্পণ, ১৭এপ্রিলঃ স্কুলের ক্লাসরুম গুলি যেন এখন ফাঁকা ঘর।স্কুলে মাত্র ১২জন শিক্ষক তার মধ্যে আবার ৩জনের চাকরি বাতিল।ঝাড়খন্ডের সীমানা লাগোয়া শাল জঙ্গলের মধ্যে জামবনির পড়শুলি ঝাড়েশ্বর হাইস্কুলের অবস্থা খুবই শোচনীয়।এই স্কুলের পড়ুয়া সংখ্যা ৩৫৭জন।এবং শিক্ষকের সংখ্যা ১২ জন।শীর্ষ আদালতের নির্দেশে তিনজনের চাকরি বাতিলের জেরে তারা স্কুল আসছেন না।সেই কারণে বাংলা, অঙ্ক, ভৌতবিজ্ঞানের ক্লাস প্রায় হচ্ছে বললেই চলে।
এই স্কুলের চিত্র কিছুটা এরকম, কোথাও চারজন, কোথাও ছয়জন, আবার কোথাও তিনজন।তবে, এই স্কুলের গড় পড়ুয়াদের সংখ্যা ৩৫০-র উপরে।তার মধ্যে স্কুলে উপস্থিত পড়ুয়ার সংখ্যা ৫০-৬০ জন।ßুñলের প্রধান শিক্ষক জানাচ্ছেন, অতীতে স্কুলের এই রূপ দেখা যায়নি।
স্কুলের উচ্চশিক্ষার জন্য একমাত্র অঙ্কের শিক্ষক, ভৌতবিজ্ঞানের শিক্ষক এবং বাংলা ও শিক্ষাবিজ্ঞানের শিক্ষক যারা ছিলেন তাদেরও চাকরি বাতিলের কারণে স্কুল জুড়ে আজ বিরাট শূন্যতা।স্কুলের প্রতি পড়ুয়াদেরও মনোযোগ ও আগ্রহ কমছে।গ্রামের মধ্যে বাল্যবিবাহের প্রবণতা বাড়ছে।পড়ুয়াদের অভিভাবকরা আর স্কুলে পাঠাতে চাইছেন না।নাবালিকা মেয়েদের পরিবারদের বিয়ে দেওয়া সম্ভাবনা বেড়েই চলেছে।
স্কুলের পড়ুয়াদের অভিযোগ স্কুলে তো ঠিকমতো ক্লাসই হচ্ছে না তাহলে স্কুল এসে কী হবে? তাঁদের অভিযোগ স্কুলে যদি এভাবে দিনের পর দিন অঙ্ক, ভৌতবিজ্ঞান, বাংলার ক্লাস না হয় তাহলে আমরা মাধ্যমিক পাশ করব কীভাবে।আমাদের তো কোনও গৃহশিক্ষক নেই।স্কুলই আমাদের ভরসা।আমাদের স্যাররা কি আর স্কুলে আসবেন না?’ শুধুমাত্র এই একটি স্কুলেরই সমস্যা নয় রাজ্যের বহু স্কুলেরই অবস্থা এরকমই।তবে এই সকল স্কুলগুলিতে আরও কিছুদিনের জন্য বাতিল শিক্ষকরা নিযুক্ত হতে পারবেন।২৬ হাজার বাতিল চিকিৎসকদের মধ্যে যারা যোগ্য তারা ৩১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত চাকরিতে বহাল থাকবেন।সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ে আপাতত স্বতি পেলেন চাকরিহারা শিক্ষকেরা।
