গুন্ডামি বরদাস্ত করব না, মুর্শিদাবাদের অশান্তিতে কড়া বার্তা ডিজি ও এডিজি-র


দিন দর্পণ, ১২এপ্রিলঃ ওয়াকফ সংশোধনী আইন প্রত্যাহারের প্রতিবাদের নামে ‘গুন্ডামি’ বরদাস্ত নয়।সাধারণ মানুষের রক্ষা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে পুলিশ সবরকম ব্যবস্থা নিচ্ছে।মুর্শিদাবাদে ‘তাণ্ডব’ নিয়ে কড়া বার্তা দিলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার।সঙ্গে মানুষকে গুজব ও কোনও প্ররোচনায় পা না দেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন ডিজি।শনিবার সাংবাদিক বৈঠকে রাজীব বলেন, ‘‘মানুষের জীবন রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব।তাই যেখানে যতটুকু প্রয়োজন পুলিশ পদক্ষেপ করেছে।কিন্তু পুলিশের সংযমকে দুর্বলতা হিসাবে দেখবেন না।প্রয়োজনে কঠোরতম পদক্ষেপ করবে পুলিশ।’’পাশাপাশি গুজব নিয়েও মানুষকে সতর্ক করেছেন রাজ্য পুলিশের প্রধান। চেয়েছেন সাধারণ মানুষের সহযোগিতা।এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) জাভেদ শামিমের কথায়,‘‘গুজব তৈরির কারখানা চালানো হচ্ছে।সবাই সতর্ক থাকুন।’’জাভেদ জানান, এ পর্যন্ত মুর্শিদাবাদের ঘটনায় মোট ১১৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

ওয়াকফ আইন (সংশোধনী)-র বিরুদ্ধে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে কয়েক দিন ধরে অশান্তি চলেছে মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর, সুতি, শমসেরগঞ্জে।পুলিশের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধেও জড়িয়েছেন বিক্ষোভকারীদের একাংশ।রাজীব জানিয়েছেন, শুক্রবার সুতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ চার রাউন্ড গুলিও চালিয়েছে।দু’জন জখম হন তাতে। তবে দু’জনেই বিপন্মুক্ত।পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে।এই প্রেক্ষিতে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চেয়েছেন ডিজি। তিনি বলেন, ‘‘কেউ আইন হাতে তুলে নেবেন না।পুলিশকে সহযোগিতা করুন।গুজব ছড়িয়ে পরিস্থিতি খারাপ করবেন না।’’

রাজীব কুমার জানান, পুলিশ মানুষের কাছে সহযোগিতা আশা করছে।অশান্তির ঘটনা নিয়ে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই গুজব বা মিথ্যা খবর ছড়ানো হচ্ছে।সেই কারণেই হিংসার ঘটনা বাড়ছে বলে দাবি পুলিশের।রাজ্য পুলিশের এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) জাভেদ শামিম বলেন, ‘সবরকম চেষ্টার পরেও যখন উন্মত্ত জনতাকে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছিল না, তখন চার রাউন্ড গুলি ছুড়তে হয়।আমরা জেনেছি, দু’জন আহত হয়েছেন।তাঁরা বিপদমুক্ত আছেন বলে আমরা জানি।’শুক্রবার বিক্ষোভ সামলাতে গিয়ে জখম হন ফারাক্কার এসডিপিও।জঙ্গিপুরের ধুলিয়ানে বিক্ষোভ চলাকালীন কিছু মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়তে হয় তৃণমূল সাংসদ খলিলুর রহমানকে।তৃণমূলের একটি সূত্রের দাবি, সাংসদের অফিসেও হামলা চলেছে।খলিলুর বলেন, আমি তখন সাজুর মোড় পার হচ্ছিলাম।বিক্ষোভকারীরা আমাকে ঘিরে ধরে গালাগালি করে।কোনও সংগঠনের পতাকা বা নেতা সেখানে ছিল না।পরে পুলিশ আমাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে।’’


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *