মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসে ভিন্ন মত কর্মহারা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের


দিন দর্পণ, কলকাতাঃ সোমবার চাকরিহারাদের উদ্দেশ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে বেলা ১২টায় একটি বৈঠক ডাকেন।সেই বৈঠকে তিনি চাকরি হারাদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনাদের কাউকে এখনও বরখাস্ত করা হয়নি, আপনারা নিজেদের মতো সকলে কাজে যান।মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর চাকরিহারাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া বেশ কিছু ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে।কিন্তু, তাদের মধ্যেই বেশিরভাগ শিক্ষকই স্কুলে যেতে ইচ্ছুক।বেশিরভাগ মানুষই আশ্বস্তবোধ করছেন মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যে।মমতার কথা শুনে চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের মধ্যে একাধিক প্রশ্ন এবং ভিন্ন মত রয়েছে।তবে প্রায় সকলের মুখেই শোনা গেল, তাঁরা স্কুলে যেতে চান।

মুখ্যমন্ত্রী সকল চাকরিহারাদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, যোগ্যদের চাকরি নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের।চাকরিহারাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘‘আপনারা কি এখনও বরখাস্তের নোটিস পেয়েছেন? চাকরি করুন না।স্বেচ্ছায় সকলেই কাজ করতে পারেন।’’তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দু’মাসের মধ্যেই বিকল্প ব্যবস্থা করে দেব।যোগ্যদের কারও চাকরি বাতিল হবে না।’তাঁর বক্তব্য, মানবিকতার খাতিরে সুপ্রিম কোর্ট রাজ্য প্রশাসনের হাতে যোগ্য-অযোগ্যের তালিকা তুলে দিক।তবে চাকরিহারারা এ ব্যাপারে প্রশ্ন তুলেছেন।স্কুলে গেলেও বেতন বিষয়টি কি হবে তা জানতে চান তারা।তারা এখনও বরখাস্ত না হলেও বেতন কি আগের মতোই পাবেন তারা?তাছাড়া, এই ব্যবস্থা কত দিনের জন্য চলবে, স্থায়ী সমাধান কী রয়েছে, তা নিয়েও ধোঁয়াশা রয়ে গিয়েছে চাকরিহারাদের একাংশের মনে।যোগ্য-অযোগ্যদের তালিকা সুপ্রিম কোর্ট দেবে, না স্কুল সার্ভিস কমিশনের দেওয়া উচিত, তা নিয়েও দ্বন্দ তৈরি হয়েছে শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং শিক্ষাকর্মীদের একাংশের মনে।

নেতাজি ইন্ডোর থেকে বেরোনোর পরে বেশিরভাগ জনই জানাচ্ছেন, তাঁরা স্কুলে যেতে চান, যাবেনও।কিন্তু আর্থিক বিষয়টি নিয়ে তাঁরা চিন্তিত।নদিয়ার পলাশি থেকে মুখ্যমন্ত্রীর কথা শুনতে এসেছিলেন চাকরিহারা মহম্মদ মুর্শিদ বিশ্বাস।তিনি মুর্শিদাবাদের এক স্কুলে চাকরি পেয়েছিলেন। মমতার আশ্বাসের পরে তিনি বলেন, ‘আমরা শিক্ষক ছিলাম।সুপ্রিম কোর্টের রায়ে আমরা শিক্ষক নেই।মৌখিক কথায় কোনও বিশ্বাস নেই।আজ এক, কাল অন্য এক হয়ে যেতে পারে!’আগামিকাল থেকে স্কুলে যাবেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্নে বললেন, ‘স্কুলে তো অবশ্যই যাব।ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে বেতন ঢুকলে, আমরা তো নেব।আমরা তো বলছি না যে নেব না।’তবে একই সঙ্গে তিনি চান, আইনগত ভাবে তাঁদের চাকরি সুনিশ্চিত করুন মুখ্যমন্ত্রী।তবে ব্যাতিক্রম স্বরও শোনা গিয়েছে কয়েকজনের মুখে।যেমন চাকরিহারা মেহেবুব মণ্ডলের দাবি, ‘যোগ্য এবং ভলান্টিয়ারি; দু’টি পৃথক শধ।আমরা যোগ্য।আমরা কোনও চুক্তিভিত্তিক চাকরির সুবিধা গ্রহণ করতে চাই না।রাস্তাই আমাদের আসল জায়গা।আমরা এখনই ßুñলে যাব না।অযোগ্যদের নিয়ে আমরা কোনও রকম কম্প্রোমাইজ করব না।’

সোমবার দুপুরে নেতাজি ইন্ডোরের মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রীর সামনে একে একে নিজেদের দাবি পড়ে শোনান চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীরা।তাঁদের দাবি, সুপ্রিম কোর্টে রিভিউ পিটিশন দিতে হবে এবং পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়া সম্পন্ন না-হওয়া পর্যন্ত কাউকে চাকরি থেকে বরখাস্তের চিঠি দেওয়া যাবে না।তাঁদের আরও বক্তব্য, যে বিচারপতি রায় দিয়েছেন, তাঁর বেঞ্চে রিভিউ পিটিশন দাখিল করা যাবে না।পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়া শেষ না-হওয়া পর্যন্ত তাঁরা যেখানে চাকরি করছেন, সেখানেই তাঁদের স্বমহিমায় বহাল রাখতে হবে।এই সময়ের মধ্যে নতুন করে পরীক্ষার কোনও বিজ্ঞপ্তি জারি করা যাবে না।চাকরিহারারা এ-ও জানিয়েছেন, তাঁরা পরীক্ষা পদ্ধতির মধ্যে যেতে চাইছেন না।তাঁদের আরও দাবি, সুপ্রিম কোর্টের রায়ে, সিবিআইয়ের নথিতে যোগ্য এবং অযোগ্যের ভাগাভাগি রয়েছে।যোগ্যদের পরিচ্ছন্ন তালিকা নিয়ে রিভিউ প্রক্রিয়ায় যেতে হবে।এই পরিস্থিতি নিয়ে সর্বদল বৈঠক ডাকার জন্যও সরকারকে অনুরোধ করেছেন তাঁরা।চাকরিহারাদের বক্তব্য, তাঁরা দক্ষ আইনজীবীর অভাব বোধ করেছেন।তাই তাঁদের এক জন দক্ষ আইনজীবীর ব্যবস্থা করে দেওয়া হোক।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *