দেশে চিকিৎসক তৈরিতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ফি কমানোর সুপারিশ সংসদীয় স্থায়ী কমিটির


দিন দর্পণ, নয়াদিল্লিঃ দেশে আরও বেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক চাই বলে করেন স্বাস্থ্যকর্তারা।কিন্তু, দেশের ডাক্তার তৈরির ক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজেরও বড় ভূমিকা রয়েছে।কিন্তু, এর সবথেকে বড়ো অসুবিধা বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের বিপুল পরিমাণের খরচ।এবার সেই কথা মাথায় রেখেই বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে ডাক্তারি পড়ার ফি-কে মধ্যবিত্তের আওতায় আনার সুপারিশ করল স্বাস্থ্য বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।তাঁদের আশা এর ফলে শুধুমাত্র ধনী পড়ুয়ারাই নয় মধ্যবিত্ত পরিবারের মেধাবী পড়ুয়ারাও ডাক্তারি পড়ার সুযোগ পাবে।সব মিলিয়ে বেসরকারি ক্ষেত্রে মেডিক্যাল পড়ার খরচকে মধ্যবিত্তের সাধ্যের মধ্যে আনার প্রস্তাব দিল কমিটি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রকে পেশ করা রিপোর্টে স্থায়ী কমিটি সুপারিশ খুব স্পষ্ট।বলা হয়েছে ‘বেসরকারি মেডিক্যাল শিক্ষাকে আরও সস্তা করা প্রয়োজন।ক্যাপিটেশন ফি আরও কড়াভাবে সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।তবেই মধ্যবিত্ত মেধাবী পড়ুয়াদের ডাক্তারি পড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে।কমিটির প্রশ্ন কেন এদেশে বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে ডাক্তারি পড়তে এতো টাকা খরচ হবে? ৩০-৪০ লক্ষ টাকা থেকে ১ কোটি টাকা বা তারও বেশি খরচ পড়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গুলিতে।যেখানে দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্রীয় সরকারের কড়া বিধি রয়েছে ক্যাপিটেশন ফি,সহ বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি ও পড়াশোনার ফি নিয়ে। কিন্তু ঘটনা হল, নজরদারির ফাঁক গলেই বহু মেডিক্যাল কলেজ ঢের বেশি ফি নেয় বলে অভিযোগ অনেক দিনের।

ভারতে বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে বিপুল অর্থ খরচের ভয়ে নিটের মেধাতালিকায় নাম থাকা বহু ছাত্রছাত্রীই স্নাতকস্তরের ডাক্তারি পড়তে বিদেশে পাড়ি দেয়।তার কারণ, চিন, বাংলাদেশ, নেপাল, ইউক্রেন, রাশিয়া, ফিলিপিন্স, ভিয়েতনামের মতো দেশে ডাক্তারি পড়ার খরচ অত্যন্ত কম।তাই ডাক্তারের সংখ্যা গড়ে অনেক বেশি।৩০-৪০ লক্ষ টাকাতেই পুরো এমবিবিএস কোর্স পড়া হয়ে যায় ওই সব দেশে।কিন্তু এদেশে সে চিত্র একেবারেই ভিন্ন।বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে পড়ার খরচ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অনেকটা বেশি।তাই সরকারের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে বেসরকারি কলেজ চালুর সুপারিশও করেছে কমিটির একাধিক সদস্য।স্কলারশিপ চালুর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে স্থায়ী কমিটির তরফে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *