সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ব্যহত রোগী পরিষেবা


দিন দর্পণ, কলকাতাঃ শহরের বুকে এক সরকারি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল থেকেও কার্যত পরিষেবার দিক থেকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কাছে গোল খাচ্ছে।সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নেই চিকিৎসক এবং অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা।শুধুমাত্র তাই নয় হাসপাতালের ভিতরের অবস্থাও বেহাল।হাসপাতালের ভিতরের রোগী দেখার ঘরের পাশেই ভর্তি আবর্জনার স্তূপ।

বছরের পর বছর এই একই অবস্থা।২০১২ সালে রাজ্য সরকারের হাত ধরে হাসপাতাল চত্বর নতুন ভাবে সেজে ওঠে এবং নতুন ভাবে নামকরণ করা হয় মেটিয়াব্রুজ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল।কিন্তু এরপরও চিকিৎসা পরিষেবার দিক থেকে কোনোরকম উন্নতি নেই।যার কারণে শিকার হচ্ছে এই হাসপাতালের উপর নির্ভরশীল গার্ডেনরিচ, মেটিয়াবুরুজ, মহেশতলার প্রায় ৪০ লক্ষ বাসিন্দা।এবিষয়ে হাসপাতাল সুপার কৌশিক রায় হাসপাতালের এই চরম দুর্দশার কথা একাবারেই মানতে নারাজ।তাঁর মতে সব কিছুই ঠিক আছে।হাসপাতাল থেকে সাধারণ মানুষদের যেসমস্ত পরিষেবা দেওয়ার কথা তা সবই ঠিক ভাবে দেওয়া হয়।তবে অনেকে এমন অভিযোগ দিতেই পারেন।কিন্তু, তা আসলে বাস্তব না।

কিন্তু, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ না মানতে চাইলেও রোগীদের কথা কোনও অংশেই মিথ্যা নয়।হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনেই বিস্তীর্ণ অংশে জল জমে।কিছু দূরেই পড়ে আবর্জনার স্তূপ।দুর্গন্ধে টেকা দায় রোগীদের।জরুরি বিভাগের সিড়িতেই পড়ে হাসপাতালের বাতিল সামগ্রীর স্তূপ।দোতলায় চক্ষু বিভাগে যত্রতত্র সিলিং থেকে চাঙড় খসে পড়ার মতো অবস্থা।ভিতরে বৈদ্যুতিক তার জট পাকিয়ে রয়েছে। শুধুমাত্র হাসপাতালের পরিকাঠামোগত সমস্যা তা নয়।হাসপাতালে বহির্বিভাগের পরিষেবা চালু থাকলেও তার মধ্যেও অনেক পরিষেবা ঠিক মতো মেলে না।মাসকয়েক আগেও এই হাসপাতালের চক্ষু বিভাগে অস্ত্রোপচার হত।কিন্তু ইদানিং তা-ও বন্ধ।রোগী দেখা হলেও তাদের অস্ত্রোপচারের জন্য মাসে এক বার রোগীদের অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে তরফেই।নিয়মিত সব বিভাগের চিকিৎসকও থাকেন না। কার্যত ‘রেফার’ রোগে আক্রান্ত এই হাসপাতাল।গার্ডেনরিচ নাগরিক পরিষদের সহ-সম্পাদক কুশল দেবনাথ বললেন, ‘‘গোটা হাসপাতাল যেন নেই-রাজ্য।কার্ডিয়োলজি, নেফ্রোলজি, নিউরোলজি-র মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে কার্যত কোনও পরিষেবাই মেলে না।কিন্তু, এখানে ৩৬ জন চিকিৎসক রয়েছেন।’’ তারপরও হাসপাতলের এই অবস্থা বিরাট বড়ো সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *