গরমে প্রাণদায়ক ফলের রসেই টাইফয়েড-এর জীবাণু


দিন দর্পণ, ২২ মার্চঃ চৈত্রেই গরমে নাজেহাল কলকাতার মানুষ।রীতিমতো গরমে হাঁসফাস অবস্থা সকলের।গরম থেকে বাঁচতে তো সকলেই চায়।কিন্তু সেই গরম থেকে বাঁচতে রাস্তার ধারে বিক্রি হওয়া ফলের জুস অনেকেরই পছন্দের।এই গরমে রাস্তার ধারে শরবতের দোকন গুলিতে রীতিমতো উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়।তবে শরবতের আড়ালে ঠিক কী পান করছেন সকলে?

সেই উদ্দেশ্যে কলকাতা পুরসভার খাদ্য নিরাপত্তা বিভাগ থেকে একটি টিম নিউমার্কেট চত্বর ও কলকাতার অন্যান্য জায়গায় অভিযান চালান।তবে এই অভিযানের শেষে বিভিন্ন স্টল থেকে পাওয়া গিয়েছে খাওয়ার অযোগ্য বাণিজ্যিক বরফ।এই বরফ ব্যবহার করা হয়ে থাকে মাছ এবং মাংস সংরক্ষণের কাজে।কিন্তু কলকাতা শহরের বুকে খোলা বাজারে সেই বরফ ব্যবহার করা হচ্ছে আখের রস থেকে শুরু করে ফলের সরবতের দোকানে।

এখন সকলের মনে প্রশ্ন কেন এই বরফের এতো পরিমাণে ব্যবহার।এই বরফের একটি চাঁইয়ের দাম মাত্র দুশো টাকা।একটি চাঁই থেকে পাঁচশোর বেশি গ্লাস শরবত বানানো যায়।এই বাণিজ্যিক বরফ আসলে প্রাণের অনুপযোগী জল দিয়ে তৈরি করা হয়ে থাকে।এছাড়াও এই বরফ আনা হয়ে থাকে নোংরা রাস্তার উপর দিয়ে টানতে টানতে।বরফ যাতে গলে না যায় অনেকে নোংরা চটের বস্তা জড়িয়ে রাখেন বরফে।স্বাভাবিকভাবেই জীবাণু থিকথিক করে তাতে।এই ধরনের শরবতের বরফ পেটে গেলে জলবাহিত রোগ টাইফয়েড হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

এই বরফের ব্যবহার বৃদ্ধির কারণে চিন্তায় চিকিৎসক মহল।শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে যে জলে এই বাণিজ্যিক বরফ তৈরি হয় তা আদৌ পান যোগ্য নয়।স্বাভাবিকভাবেই শরীরের পক্ষে মারাত্মক ক্ষতিকর এই বরফ।মূলত শিশুদের শরীরে এর প্রভাব মারাত্মক।কিন্তু, শিশুদের নিয়ে অভিভাবকদের ভিড় এইসব শরবতের স্টলেই সবচেয়ে বেশি।এই ধরনের শরবতের বরফ পেটে গেলে জলবাহিত রোগ টাইফয়েড হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।হতে পারে হেপাটাইটিস এ, হেপাটাইটিস ই।বরফের পাশাপাশি শরবতের দোকানে কৃত্রিম রং নিয়েও সতর্ক থাকতে বলছেন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ।তাঁর কথায়, কৃত্রিম এই রংগুলি থেকে ভবিষ্যতে ক্যানসার পর্যন্ত হতে পারে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *