হাওড়ায় ধসের জেড়ে টানা দুদিন নির্জলা এলাকাবাসী


দিন দর্পণ, হাওড়াঃ হাওড়ার বেলগাছিয়ার ভাগাড় সংলগ্ন এলাকায় বৃহস্পতিবার সকালে ধস নেমে জলের পাইপ ফেটে বিপত্তি।হাওড়ার প্রায় ২২ টি ওর্য়াডে জল সরবরাহ ব্যহত বিগত দুই দিন থেকে।এছাড়াও যে সমস্ত এলাকায় জল আসছে সে সমস্ত এলাকাতেও জলের গুণমাণ খুবই খারাপ।যা ব্যবহারের অনুপযোগী।বেলগাছিয়া এলাকায ধসের জেড়ে প্রায় দেড় বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ফাটল দেখা দিয়েছে।বেলগাছিয়া সি রোড এবং এফ রোড সংলগ্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের বাড়িতেও ফাটল দেখা দিয়েছে।তারই সঙ্গে ভেঙে পড়েছে ভাগাড় সংলগ্ন পাম্পিং স্টেশন।পদ্মপুকুর জলপ্রকল্পের ১৫০০ মিলিমিটার ব্যাসের মূল পাইপলাইন ফেটে দিনভর নির্জলা হয়ে পড়েছে উত্তর হাওড়া ও শিবপুর বিধানসভার একাংশ।

এলাকাবাসীর মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।আবারও ধস নামার আশঙ্কায় ভিত স্থানীয়রা।বিগত দুইদিন স্থানীয়দের বিদ্যুৎ এবং জলের সমস্যায় চরম ভোগান্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।যুদ্ধকালীন তৎপরতায় বুধবার সারারাত পুরসভা ও কেএমডিএ-র ইঞ্জিনিয়ারেরা কাজ করেছে।স্থানীয়দের আপাতত নিরাপদ দুরত্বে নিয়ে যাওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।পাইপলাইন মেরামত করে কখন জল সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, তা নিশ্চিত ভাবে জানাতে পারেননি পুর কর্তৃপক্ষ।

পুরসভা সূত্রের খবর, পদ্মপুকুর জলপ্রকল্পের মূল পাইপলাইনটি গিয়েছে বেলগাছিয়া মোড় থেকে এফ রোড হয়ে, বেলগাছিয়া ভাগাড়ের পাশ দিয়ে।আবার সেটির পাশ দিয়েই গিয়েছে উত্তর হাওড়ার মূল নিকাশি নালা।আর সে থেকেই এই বিপত্তি।ওই ভাগাড়ে হাওড়া শহরের যাবতীয় আবর্জনা জমে কার্যত পাহাড়ের আকার নিয়েছে।যেখান থেকে প্রায়ই ধস নেমে এলাকার মূল নিকাশি নালা অবরুদ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটছে।তাছাড়া, জমা আবর্জনা থেকে মিথেন গ্যাস বেরিয়ে আগুন লেগে যায় প্রায়ই।ধোঁয়ায় অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেন এলাকার বাসিন্দারা।এ দিন সকালে মাটির তলায় ধসের জেরে জলের পাইপলাইন ফেটে গোটা এলাকা ভেসে যায়।জল ঢুকে যায় একাধিক বাড়িতেও।প্রাথমিক ভাবে ইঞ্জিনিয়ারেরা মনে করছেন, ভূমিস্তরে জৈব গ্যাসের জেরে ক্ষয় ধরায় এই ধস।দেড় বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে রাস্তায় ফাটল তৈরি হয়েছে।নির্জলা ওয়ার্ডে পুরসভা ট্যাঙ্কারে জল সরবরাহ শুরু করেছে।ইতিমধ্যেই কলকাতা পুরসভা থেকেও ট্যাঙ্কার আনা হয়েছে। প্রয়োজনে কলকাতা পুরসভা আরও ট্যাঙ্কার পাঠাবে বলে জানা গিয়েছে।

এ দিকে, পাইপ ফেটে রাস্তা বন্ধ হওয়ায় এ দিন এফ রোড দিয়ে পুরসভার জঞ্জাল অপসারণের গাড়ি যেতে না পারায় ঘুরে ঝিল রোড দিয়ে যেতে হচ্ছে।ফলে সময় মতো জঞ্জাল অপসারণেও সমস্যা তৈরি হয়েছে।পুর চেয়ারপার্সন জানিয়েছেন, পাইপলাইন ও রাস্তা মেরামতি না হওয়া পর্যন্ত ঝিল রোড দিয়েই জঞ্জালের গাড়িকে ভাগাড়ে ঢুকতে হবে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *