দিন দর্পণ, শান্তিনিকেতনঃ শান্তিনিকেতনে ঘুরতে যাওয়া পর্যটকদের জন্য ফের খুলে দেওয়া হল বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের দরজা।কিছুদিন আগে বিশ্বভারতীতে স্থায়ী উপাচার্য পদে নিযুক্ত হয়েছিল প্রবীরকুমার ঘোষ।তারপরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।২০২০ সালে কোভিড আবহে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সাধারণ পর্যটকদের প্রবেশাধিকারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উন্মুক্ত ভাবনাচিন্তাকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন।বিশ্বভারতী বিশ্ব বিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি ক্যাম্পাসে ঘোরাফেরাতেও কোনওপ্রকার নিষেধাজ্ঞা ছিল না।পর্যটকদেরও ক্যাম্পাসে ঢোকার ক্ষেত্রেও কোনও বাধা ছিল না।কোভিডের পরে সেই দরজা বন্ধ হয়ে যায়।পর্যটকদের ক্যাম্পাসে ঢোকা নিষিদ্ধ হয়ে গিয়েছিল।সেইসময় বিশ্বভারতীর উপাচার্য পদে ছিলেন বিদ্যুৎ চক্রবর্তী।করোনা আবহ কাটলেও পর্যটকদের জন্য ক্যাম্পাসের দরজা খোলা হয়নি।নিরাপত্তা-সহ একাধিক ইস্যুতে বাইরের কোনও ব্যক্তি ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারবেন না।সেই নির্দেশই এতদিন ধরে বহাল ছিল। পর্যটকরা কেবল বিশ্বভারতীর মিউজিয়ামে ঢুকতে পারতেন টিকিট কেটে।এই সিদ্ধান্তের কারণে শান্তিনিকেতনের বাসিন্দাদের মধ্যেও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল।যদিও নিজের সিদ্ধান্ত থেকে একচুলও সরে আসেননি বিদ্যুৎ চক্রবর্তী।
কিন্তু এরপরই উপাচার্য হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হওয়ার পরেই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিলেন প্রবীরকুমার ঘোষ।তিনি জানিয়ে দিলেন, ক্যাম্পাসের দরজা ফের খুলে দেওয়া হল পর্যটকদের জন্য।ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়।তার ফলে পর্যটকদের মধ্যে ক্যাম্পাস ঘুরে দেখার জোরালো দাবিও উঠছিল।পর্যটকদের কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল।দীর্ঘ পাঁচ বছর পরে ফের খুলে দেওয়া হল বিশ্বভারতীর দরজা।এই বিষয়ে উপাচার্য প্রবীরকুমার ঘোষ জানিয়েছেন, হেরিটেজ ও পর্যটনকে একসঙ্গে যোগ করতে হবে।পর্যটনের পাশাপাশি নিরাপত্তার দিকটিও খতিয়ে দেখা হবে।পর্যটন ও নিরাপত্তার বিষয়ে রাজ্য সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলা হবে।এই কথা জানিয়েছেন উপাচার্য।
