জাল পেট্রল তৈরির কারখানার হদিশ পেল এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ, গ্রেফতার ৭


দিন দর্পণ, মুর্শিদাবাদঃ কিছুদিন আগেই জাল ওষুধের কারবার নিয়ে তোলপাড় হয়েছিল গোটা রাজ্য।তার রেশ এখনও কাটেনি এরইমধ্যে এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ হদিশ পেল জাল পেট্রল তৈরির কারখানার।মুর্শিদাবাদ জেলার প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকায় একাধিক পাম্প না থাকায় রমরমিয়ে তৈরি হতো জাল পেট্রল।সেটি রাস্তার ধারে বোতলে ভরে বিক্রি করা হতো।তবে এই জাল পেট্রলটি একেবারেই পাম্পের আসল পেট্রলের মতো।এমনকি  এটির গন্ধ একেবারেই পেট্রলের মতো।যা বাইরে থেকে দেখে  জাল হিসাবে বোঝার উপায় নেই।তবে তার গুণগত মান পেট্রল পাম্পে বিক্রি হওয়া পেট্রলের মতো একেবারেই নয়।সেই পেট্রল ব্যবহার করে গ্রাহকরা আশানুরুপ মাইলেজ পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ।দিনের পর দিন একই ঘটনা সাক্ষী থেকেছেন অনেকে।এইসব চলাকালীন মানুষজনের সন্দেহ হওয়ায় তাঁরা নালিশ জানান এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চে।আর তখনই পর্দাফাঁস হয়ে যায়।  

এদিকে বারবার অভিযোগ জমা পড়ায় তদন্তে নামে এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ।এরপর গোটা ঘটনাটি নজরে পড়ে সুতি থানার পুলিশ এবং জেলা এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের অফিসারদের।গোপন সূত্র পাওয়া খবরের উপর ভিত্তি করেই পরিকল্পনা সাজিয়ে ফেলা হয়।পরিকল্পনা মারফত শুক্রবার মাঝরাতে অভিযান চালায় সুতি থানার পুলিশ এবং এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের অফিসাররা।ওই অভিযান চালিয়ে প্রায় দেড়শো লিটারের বেশি জাল পেট্রল উদ্ধার করেন অফিসাররা।এই কাজের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে সাতজনকে।

আজ শনিবার ধৃতদের জঙ্গিপুর আদালতে পেশ করা হয়েছে।আর পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানানো হয়েছে সেখানে।জেলা পুলিশের এক অফিসার জানান, কদিন ধরেই তাদের কাছে গোপন সূত্রে খবর আসে সুতি থানার অন্তর্গত মানিকপুর মোড় এবং ধলা মোড়ের নিকটে বেশ কিছু যুবক দীর্ঘদিন ধরে বোতলে করে পেট্রল বিক্রি করছে।কিন্তু ওই পেট্রল কিনে গ্রাহকরা প্রয়োজনীয় মাইলেজ পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ।তা লিখিত আকারে জমা পড়ে পুলিশের কাছে।পুলিশ সূত্রে খবর, সুতি এলাকায় একটি দোকান ঘর ভাড়া নিয়ে চলতো ব্যবসা।উঁচু পাঁচিল মারফত ওই এলাকা ঘেরা থাকায় সেই সুযোগ নিয়েই দেদার তৈরি হতো জাল পেট্রল।আর তা বিক্রি করে মোটা টাকা মুনাফা করত এই জালিয়াতরা।নানারকম রাসায়নিক এবং রঙিন পদার্থ মিশিয়ে তারা জাল পেট্রল তৈরি করত।পুলিশ সূত্রে খবর, জাতীয় সড়কের উপর দিয়ে যেসব ট্রাক, চার চাকা বা অন্যান্য যানবাহন চলাচল করে সেসব চালকরা পেট্রল নিতেন।কিন্তু তাতে লাভের লাভ হতো না।কিন্তু জাল পেট্রল রোজই নিজেদের কারখানায় বিপুল পরিমাণ তৈরি করত জালিয়াতরা।এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত সেটা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *