বঙ্গে হস্তিশাবকের চিকিৎসায় থাইল্যান্ডের দুই চিকিৎসক


দিন দর্পণ, মার্চঃ মানুষ হোক কিংবা পশু বিরল রোগের হাতছানি কোনও ক্ষেত্রেই পিছু ছাড়ে না।কিন্তু বর্তমান দিনে দাঁড়িয়ে প্রত্যেকটি বিরল রোগের চিকিৎসাও নিদারুণ প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়।বাগডোগরার বেঙডুবিতে ট্রাইপ্যানোসোমায় আক্রান্ত অসুস্থ হস্তিশাবকের চিকিৎসায় বিরল ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করল কার্শিয়াং বনদপ্তর।গত মঙ্গলবার থাইল্যান্ডের দুই চিকিৎসক এবং দু’জন সহকারী বিমানে বাগডোগরায় এসে পৌঁছোন।জঙ্গল থেকে শাবকটিকে বৃহস্পতিবার সরিয়ে আনা হয়েছে টাইপু বিট অফিস চত্বরে।বড় বড় শাল গাছের খুঁটি দিয়ে মাচা তৈরি করে সেখানে হাতিটিকে বেল্ট দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে।দু’পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছে দুটি জেসিবি।দমকলের একটি ইঞ্জিনও রয়েছে।চব্বিশ ঘণ্টা ধরে চালানো হচ্ছে স্যালাইন।সঙ্গে দফায় দফায় ইঞ্জেকশন এবং নানা ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক।

ট্রাইপ্যানোসোমা মূলত আফ্রিকা এবং থাইল্যান্ডের বুনো জন্তুদের রোগ।ভারতে বুনো জন্তুদের মধ্যে এমন বিরল রোগ দেখা যায়নি অতীতে।রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম এমন গবাদিপশুদের এই রোগে আক্রান্ত হতে দেখা যায়।এই রোগে দ্রুত সংক্রমণ ঘটে।ট্রাইপ্যানোসোমায় আক্রান্ত প্রাণীর প্রবল জ্বর হয়।যথারীতি খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে দেয় তারা।ক্রমে দাঁড়িয়ে থাকার ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলে।শরীরে ছড়িয়ে পড়ে সেপটিসেমিয়া।এমনকি এই রোগ আক্রান্ত হলে মৃত্যু একেবরেই নিশ্চিত।

উত্তরবঙ্গে অসম সীমানা লাগোয়া সঙ্কোশ থেকে নেপাল সীমান্তের মেচি পর্যন্ত বিশাল বনাঞ্চলে আজ পর্যন্ত ট্রাইপ্যানোসোমায় আক্রান্ত কোনও প্রাণীর সন্ধান পাননি বনকর্মীরা।ফলে বাগডোগরার এই হস্তিশাবকটি কী করে সংক্রমিত হলো সেটা এখনও স্পষ্ট নয়।বাগডোগরার জঙ্গলে সারা বছর বুনো হাতির পাল ঘোরাঘুরি করে।ফলে একটিই হাতি সংক্রমিত হয়েছে না কি সংক্রমণ অন্য প্রাণীদের মধ্যে ছড়িয়েছে, সেটা খতিয়ে দেখতে কার্শিয়াং বন দপ্তর থেকে নজরদারি শুরু হয়েছে।ট্রাইপ্যানোসোমায় আক্রান্ত কোনও গবাদিপশু জঙ্গলে ঢুকে রোগ ছড়িয়েছে কি না সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।কার্শিয়াংয়ের ডিএফও দেবেশ পান্ডে বলেন, ‘আমাদের পক্ষে সমস্ত ধরনের পদক্ষেপই করা হচ্ছে।একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সাহায্য নিয়ে থাইল্যান্ড থেকে দু’জন চিকিৎসককে আনা হয়েছে।’

বন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, থাইল্যান্ডের পশু চিকিৎসকেরা কাজে নামার পরে শাবকের শারীরিক পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হয়েছে।বন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি বুনো হাতিটিকে প্রথম দেখা যায় বেঙডুবিতে ১৬ এফওডি সেনা ছাউনি এলাকায়।বেঙডুবি জঙ্গলের এই এলাকায় সেনাদের নানা গোপন কাজকর্ম সারা বছর ধরে চলে।ফলে এখানে বনকর্মীদেরও অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করতে হয়।সেনা জওয়ানরাই প্রথম হাতিটিকে রুগ্ন এবং এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় দেখতে পান।তাঁরা বনদপ্তরে খবর দেন। রক্ত পরীক্ষা করতে গিয়ে জানা যায়, শাবকটি ট্রাইপ্যানোসোমায় আক্রান্ত।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *