দিন দর্পণ, ৬মার্চঃ বিশ্ব জুড়ে নাকি কমছে প্রজাপতির সংখ্যা।জীববৈচিত্র বাঁচানোর স্বার্থে প্রজাপতি খুবই জরুরি।আর তার জন্য দরকার পরাগ মাখা প্রজাপতি।কারণ প্রজাপতির পরাগমিলন না হলে ফুল ও ফলের সংখ্যা কমে যাবে।নির্দিষ্ট জায়গার ভিতরে বিভিন্ন গাছে উড়ে বেড়ায় প্রজাপতি।বিশ্বের বহু বিমানবন্দরে এমন প্রজাপতি,পার্ক দেখা যায়।তাতে প্রজনন বাড়ে।এরই কারণে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পরিবেশবিদরা।এ ভাবে প্রজাপতির সংখ্যাতিরিক্ত হ্রাস পরিবেশের ভারসাম্যে বড়সড় বিপদ আনতে পারে।এই কারণেই প্রজাপতির প্রজনন বাড়াতে অনেক ক্ষেত্রে পার্ক তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এবার পশ্চিমবঙ্গে বেসরকারি উদ্যোগে তৈরি হবে বেশ কিছু প্রজাপতি পার্ক।নিউটাউন থেকে রাজাভাতখাওয়া পর্যন্ত সরকারি উদ্যোগে ১১টি পার্ক ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে।এবারে এই প্রজাপতি পার্ক তৈরি হতে চলেছে রাজ্যের সরকারি স্কুল গুলিতে।রাজ্য জীববৈচিত্র পর্ষদের দাবি, স্কুলের মধ্যে এই প্রজাপতি পার্ক তৈরি হলে একদিকে প্রজাপতির সংখ্যা বাড়বে।আবার স্কুল জীবনেই এদের গুরুত্বের কথা জানতে পারবে পড়ুয়ারা।জীববৈচিত্র পর্ষদের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে পরিবেশবিজ্ঞানীরা বলছেন, বর্তমান সময়ে এটি ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।কারণ, প্রজাপতির সংখ্যা ক্রমশ নিন্মগামী।
পর্ষদ সূত্রে খবর, ২০২৪,২৫ আর্থিক বছরে রাজ্যজুড়ে ৮৪টি স্কুলে প্রজাপতি পার্ক তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।যে তালিকায় কলকাতার বদলে রয়েছে জেলার স্কুল গুলি।কারণ, পর্ষদ কর্তাদের মতে, এই পার্ক তৈরির জন্য স্কুলের ভিতরে যতটা জমির প্রয়োজন, তা কলকাতায় পাওয়া মুশকিল।তবে, দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও যে প্রায় ৭০টি পার্ক তৈরি হবে, তাতে থাকতে পারে কলকাতার নাম।এখন ঠিক হয়েছে, জেলায় যে সব সরকারি প্রাইমারি এবং হাইস্কুলে পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে, সেখানেই তৈরি হবে এই পার্ক।
পর্ষদের বিজ্ঞানীদের পরামর্শেই শুরু হয়েছে স্কুলে প্রজাপতি পার্ক তৈরির কাজ।পর্ষদের প্রতিনিধিরা এই পার্কগুলি নির্দিষ্ট সময় অন্তর পরিদর্শনে গিয়ে পরামর্শ দিচ্ছেন।পার্ক তৈরির পাশাপাশি পড়ুয়াদের শেখানো হচ্ছে কী ভাবে প্রজাপতি সংরক্ষণ করতে হয়, কেন প্রজাপতি সংরক্ষণ জরুরি।জীববৈচিত্র পর্ষদের বিজ্ঞানীদের বক্তব্য, ছাত্রাবস্থা থেকে প্রকৃতিতে থাকা সব জীবের গুরুত্ব বোঝা প্রয়োজন।পরাগমিলনে প্রজাপতির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা ছাত্রাবস্থাতেই পড়ুয়ারা জানুক।সেই কারণে, স্কুলগুলিতে প্রজাপতি পার্ক তৈরির এই পরিকল্পনা।
