দিন দর্পণ, কলকাতাঃ কসবা কান্ডে নয়া মোড়।একই পরিবারের তিনজন মারা যাওয়ার ঘটনায় মৃত যুবক সোমনাথ রায়ের মামা ও মামিকে আগেই গ্রেফতার করেছিল পুলিশ।এবার কসবা কান্ডে গ্রেফতার করা হল লোন এজেন্টকে।প্রকাশে ইতিমধ্যে এসেছে ওই লোন এজেন্টের নাম চঞ্চল মুখোপাধ্যায়।কসবায় ওই পরিবারের ঘরের দেওয়ালে একটি সুসাইড নোট পাওয়া গিয়েছিল সেই নোটেই এই লোন এজেন্টের নাম ছিল।পুলিশ সুসাইড নোটের সূত্রেই পুলিশ ওই লোন এজেন্টকে গ্রেফতার করে।জানা গেল, টাকার বিনিময়ে ব্যাঙ্ক থেকে সোমনাথদের ১০ লাখ টাকার ঋণ পাইয়ে দিয়েছিলেন তিনিই।
সোমনাথ পেশায় একজন অটোচালক ছিলেন।স্থানীয় প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ জানতে পারে, সোমনাথের আড়াই বছরের ছেলে রুদ্রনীল জন্ম থেকেই কঠিন অসুখে আক্রান্ত ছিল।সোমনাথ তার ছেলের চিকিৎসার খরচ জোগাড় করার জন্য কিছুদিন আগে নিজের অটোও বিক্রি করে দিয়েছিলো।এদিকে এই লোন এজেন্টের কথা জানতে পেরে পুলিশের হাতে তথ্য এসেছে, ছেলের চিকিৎসার জন্য একটি ব্যাঙ্ক থেকে ১০ লক্ষ টাকা লোন নিয়েছিলেন সোমনাথ।কিন্তু সেই লোনের টাকা শোধ দিতে পারছিলেন না।তাই এই এজেন্টের বিরুদ্ধে চাপ দেওয়া অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, বেশ ঘনঘন বাড়ি এসে সোমনাথকে হুমকি দিতেন চঞ্চল।টাকা না পেলে খারাপ হবে, এমন হুঁশিয়ারিও নাকি দিয়েছেন।শুধুমাত্র লোন এজেন্টই নয় এর পাশাপাশি একাধিক পাওনাদারও আসতেন সোমনাথের কাছে।তাঁদের নাম দেওয়ালে লিখে রেখে যান তিনি।সেই নামগুলির মধ্যে এই লোন এজেন্টের নামও ছিল।সেই সূত্রেই এবার গ্রেফতার হলেন চঞ্চল।আজই তাঁকে আলিপুর আদালতে তুলে নিজেদের হেফাজতে চাইবে পুলিশ।
শুধুমাত্র দেনার দায়েই এই আত্মহত্যা নাকি নিজেদের সন্তানের অসুখ কখনোও ঠিক হবেনা জেনেই এই আত্মহত্যা সে বিষয়ে এখনো ধোঁয়াশা।সুসাইড নোটে সম্পত্তি সংক্রান্ত বিবাদ এবং মামা-মামির নাম উল্লেখ করে গিয়েছিলেন সোমনাথ।একই সঙ্গে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগও এনেছিলেন তিনি।তবে এই ঘটনার ময়নাতদন্তের রির্পোট এসেছে।ওই রির্পোটে উল্লেখ করা হয়েছে, শিশুটির নাক এবং ঠোঁটে একাধিক আঘাত রয়েছে।মনে করা হচ্ছে, শ্বাসরোধ করার সময়ই সেই চোট লাগে তার।ধরে নেওয়া হচ্ছে সন্তানকে খুন করেই আত্মঘাতী হয়েছেন বাবা-মা।
