দিন দর্পণ, দেরাদুনঃ গতকাল শুক্রবার প্রবল তুষারধসে আটকে পড়েছিলেন ৫৭জন শ্রমিক।২৪ ঘন্টা কেটে গেলেও এখনো উদ্ধার কাজ চলছে।উত্তরাখন্ডের বদ্রীনাথের অদূরে মানা গ্রাম সেখানেই এই দুর্ঘটনা ঘটে।ওই ৫৭ জন শ্রমিক একটি বেসরকারি সংস্থার হয়ে কাজ করেন।বর্ডার রোড অর্গানাইজেশনের একটি সাইটের কাছে বরফ সরানোর কাজ করছিলেন তাঁরা।রাজ্য এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী তো বটেই, ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশও (আইটিবিপি) তুষারধসের নীচে আটকে থাকা শ্রমিকদের খোঁজ চালাচ্ছে।ভারতীয় সেনাও শুক্রবার থেকেই শ্রমিকদের উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে।কিন্তু, শনিবার দুপুর পর্যন্ত ৫০ জন শ্রমিককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।তাঁদের মধ্যে চার শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সেনা।
শনিবার সকালে পরিস্থিতি, উদ্ধারকাজের তৎপরতা ও আবহাওয়া সংক্রান্ত খোঁজখবর নেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি এক এক্সবার্তায় জানিয়েছেন, শ্রমিকদের উদ্ধারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী উদ্বেগ প্রকাশ করলেও দ্রুত তাঁদের নিরাপদে বের করে আনার পরামর্শ দেন।এদিন সকাল থেকে হৃষিকেশ-বদ্রীনাথ জাতীয় সড়ক কর্ণপ্রয়াগের কাছে তুষারপাতে বন্ধ হয়ে গিয়েছে।দুধারে অসংখ্য গাড়ি দাঁড়িয়ে পড়েছে।এমনিতেই শুক্রবার সকাল থেকে চামোলির মানা গ্রামে তুষারধসের কারণে এই জাতীয় সড়ক বন্ধ হয়ে রয়েছে।কিন্তু, অবিশ্রান্ত তুষারপাতে এখন তা যাতায়াতের অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে।
গতকাল থেকে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বার বার বাধা পায় উদ্ধারকাজে।ওই এলাকায় ছয় থেকে সাত ফুট পুরু চাদরে ঢেকে যায়।একই সঙ্গে চলতে থাকে অবিরাম তুষারপাত।দৃশ্যমানতা কম থাকায় উদ্ধারকাজে বেগ পেতে দেখা যায়।দৃশ্যমানতা কম থাকায় সেখানে নামানো যায়নি হেলিকপ্টারও।শুক্রবার রাত পর্যন্ত ৩২ জন শ্রমিককে তুষারধসের মধ্যে থেকে বার করে আনা সম্ভব হলেও সারা রাত সেখানে প্রায় ২৫ জন আটকে ছিলেন।শনিবার সকাল থেকেই জোরকদমে শুরু হয় উদ্ধারকাজ।আবহাওয়ার সামান্য উন্নতি হওয়ায় ঘটনাস্থলে হেলিকপ্টার নামায় সেনা।উদ্ধার করা শ্রমিকদের জোশীমঠে সেনা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।ভারতীয় সেনা সূত্রে জানানো হয়েছে, আহত শ্রমিকদের মধ্যে চার জনের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়।
