দিন দর্পণ, ১১ফেব্রুয়ারিঃ উচ্চশিক্ষায় প্রথম পাঁচে পশ্চিমবঙ্গের নাম রয়েছে।রাজ্যের সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয় গুলির মাধ্যমে সঠিক মানে উচ্চশিক্ষার প্রসার নিয়ে নীতি আয়োগ একটি রির্পোট প্রকাশ করেছে।২০১১ থেকে ২০১২ এবং ২০২১ থেকে ২০২২ এর মধ্যে উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে কী কী পরিবর্তন হয়েছে সে সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখে এই রির্পোট প্রকাশ করা হয়েছে।২০১১ থেকে ১২ সালে গোটা দেশের মধ্যে পড়ুয়াদের ভর্তির হারে পশ্চিমবঙ্গ গোটা দেশের মধ্যে ১৭ নম্বরে।কিন্তু এক দশক পরে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির হারে উন্নতির মাপকাঠিতে পশ্চিমবঙ্গের জায়গা প্রথম পাঁচে।ছাত্র ছাত্রীদের ভর্তির নিরিখে বা ছাত্র-শিক্ষকের অনুপাতেও আগের তুলনায় এগিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ।রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মাধ্যমে সঠিক মানের উচ্চশিক্ষার প্রসার নিয়ে আজ রিপোর্ট প্রকাশ করেছে নীতি আয়োগ।
নীতি আয়োগের শিক্ষা বিষয়ক প্রোগ্রাম ডিরেক্টর সোনিয়া পন্ত বলেন, উচ্চশিক্ষায় ভর্তির ক্ষেত্রে ভর্তির হার ২০২১-২২-এ পশ্চিমবঙ্গে ছিল ২৬.৩ শতাংশ।দেশের মধ্যে ১৮ নম্বরে।কিন্তু ২০১১-১২-এ পশ্চিমবঙ্গে এই ভর্তির হার ছিল ১৩.৬ শতাংশ।এক দশকে যে ১০টি রাজ্য সব থেকে বেশি উন্নতি করেছে, তার মধ্যে কেরল,হিমাচল প্রদেশ, অরুণাচল প্রদেশ, মিজোরামের পরেই পঞ্চম স্থানে পশ্চিমবঙ্গ।তবে নীতি আয়োগের রিপোর্ট বলছে, উচ্চশিক্ষায় পড়ুয়াদের শিক্ষায় খরচের নিরিখে পশ্চিমবঙ্গ অনেকটাই পিছিয়ে।রাজ্যের জিডিপি বা জিএসডিপি-র মাত্র ০.৪৩ শতাংশ উচ্চশিক্ষায় ব্যয় হয়।বিহার, অসম, ঝাড়খণ্ডের পাশাপাশি মেঘালয়, মণিপুর, মিজোরাম প্রায় ১ শতাংশের আশেপাশে অর্থ ব্যয় করছে।নীতি আয়োগের বক্তব্য অনুযায়ী, রাজ্য সরকারের খরচে চলা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েই ৮১ শতাংশ পড়ুয়া পড়াশোনা করেন।
দেশে এখনও পর্যন্ত ৪৯৫টি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে।এই সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলির অধীনে ৪৬ হাজার কলেজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।সব থেকে বেশি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে কর্নাটকে,৪৩টি।কর্ণাটকের পরেই রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তরপ্রদেশ।এই দুই রাজ্যে ৩৮টি করে রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে।তবে জনঘনত্বের অনুপাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যার নিরিখে পশ্চিমবঙ্গ ১৮ নম্বরে রয়েছে।নীতি আয়োগের সিইও বি ভি আর সুব্রহ্মণ্যম বলেন, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা যাতে পাশ করে বেরিয়ে চাকরির যোগ্য হয়, শিক্ষার গুণগত মান যাতে বজায় থাকে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হাতে যাতে যথেষ্ট অর্থ থাকে, সেটা কেন্দ্রের সাহায্য নিয়ে রাজ্য সরকার গুলিকেই নিশ্চিত করতে হবে।এ ক্ষেত্রে নীতি আয়োগের সুপারিশ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে নিজের মতো ফি ঠিক করার ক্ষমতা দেওয়া হোক।শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিকাঠামো তৈরির অর্থ জোগানে নির্দিষ্ট সংস্থা তৈরি হোক।
