মহাকুম্ভের তীব্র যানজটে ঘন্টার পর ঘন্টা আটকে বহু পুণ্যার্থী


দিন দর্পণ, প্রয়াগরাজঃ ১৪৪ বছর পর মহাকুম্ভের মহাযোগে ভক্তদের মধ্যে উন্মাদনা তুঙ্গে।মহাকুম্ভে যে ভিড় হবে সে আন্দাজ উত্তরপ্রদেশ সরকারের আগে থেকেই ছিল কিন্তু তারপরেও দুর্ঘটনার কোনরকম শেষ নেই।এবার তীব্র যানজটের শিকার মহাকুম্ভে যাওয়া ভক্তরা।এই তীব্র যানজট কাটিয়ে আগে যাওয়ার তিল মাত্র জায়গা নেই।উত্তরপ্রদেশ সরকারের আগে থেকেই ধারণা ছিল মহাকুম্ভে কোটি কোটি মানুষের ভিড়ের।মেলা শুরুর আগে থেকেই পুণ্যার্থীদের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন তত্ত্বও দিচ্ছিল যোগী আদিত্যনাথ সরকার।এমনকি, কোটি কোটি পুণ্যার্থীর ‘নিশ্ছিদ্র সুরক্ষা’ব্যবস্থার দাবি করেছিল তারা, যাকে অভিহিত করা হয় এক নতুন শব্দবন্ধে ‘ওয়ার্ল্ড ক্লাস ক্রাউড ম্যানেজমেন্ট’।কিন্তু তার পরও কেন বার বার‘অব্যবস্থা’ র কারণে সমস্যায় পুণ্যার্থীরা, প্রশ্ন বিরোধীদের।

ত্রিবেণীসঙ্গমে ডুব দিতে লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীদের ভিড় প্রয়াগরাজে।ঘন্টার পর ঘন্টা পুণ্যার্থীরা যানজটে আটকে।শুধু ছোট, বড় যাত্রিবাহী গাড়ি নয়, পণ্যবাহী লরি, ট্রাক, এমনকি অ্যাম্বুল্যান্সও ফেঁসে গেল প্রায় ৩০০ কিলোমিটার লম্বা যানজটে।কর্তব্যরত পুলিশদের বার বার সকলের উদ্দেশে বলতে শোনা গিয়েছে,দয়া করে আর এগোবেন না।ফিরে যান।সড়ক পথে যারা আসছেন তাঁদের বিহার পেড়লেই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।মধ্যপ্রদেশের মাইহারের পুলিশ জানিয়েছে, রবিবার থেকে শুরু হওয়া যানজটের কারণে প্রয়াগরাজের দিকে যাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।এই যানজটের কারণে পুণ্যার্থীরা কেউ পাঁচ ঘণ্টা, কেউ আট ঘণ্টা, কেউ আবার ১২ ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন বলেও দাবি।অনেকেরই দাবি, ৪৮ ঘণ্টা কেটে গেলেও যানজট কাটেনি।অনেকে আবার মহাকুম্ভের পথের এই যানজটকে ‘বিশ্বের বৃহৎ যানজট’বলেও মনে করছেন।এর আগে কোথাও এত্ত বড়ো তীব্র যানজট হয়নি বলেই মনে করা হচ্ছে।

অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি(শুক্রবার)পর্যন্ত প্রয়াগরাজ সঙ্গম স্টেশন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।লখনৌয়ের উত্তর রেলের আধিকারিক কুলদীপ তিওয়ারি জানান, স্টেশনের বাইরে এতই ভিড় যে পুণ্যার্থীরাও স্টেশন ছেড়ে বার হতে পারছেন না।সব দিক বিবেচনা করেই শুক্রবার পর্যন্ত প্রয়াগরাজ সঙ্গম স্টেশন বন্ধ রাখা হচ্ছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *