দিন দর্পণ,২৫জানুয়ারিঃ ২০০৮ সালে ২৬শে নভেম্বর মুম্বাই হামলার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত তাহাউর রানাকে ভারতের কাছে প্রত্যর্পণ করার পথে আর কোনও আইনি বাধা থাকল না।ডোনাল্ড ট্রাম্প ফের আমেরিকার প্রেসিডেন্ট পদে বসতেই বড় কূটনৈতিক জয় পেল ভারত।তাকে প্রত্যর্পণের অনুমতি দিল মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট।এর আগে মার্কিন আদালত প্রত্যপর্ণে সায় দিলেও রানা সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিল। সেটাই খারিজ করে দিয়েছে আমেরিকার সর্বোচ্চ আদালত।
কানাডার নাগরিক রানা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লস এঞ্জেলেসের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে আটক রয়েছে।২০২৪ সালের ১৩ নভেম্বর সে সুপ্রিম কোর্টে একটি ‘সার্টিওরারি’ রিট আবেদন করে।তবে আদালত সংক্ষিপ্ত এক রায়ে জানায়, পিটিশন ডিনাইড।অর্থাৎ আবেদন খারিজ করা হচ্ছে।২০১৩ সালে তাকে ১৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ডের সাজা দেয় আমেরিকার আদালত।২০২০ সালে স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে তাকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল প্রশাসন।তবে, ভারতের প্রত্যর্পণের আবেদনে খুনের মামলায় ফের তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।এরপরই ২০২৩ সালে তার বিরুদ্ধে বিশেষ আদালতে চার্জশিট পেশ করে মুম্বই পুলিশ।দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর রানাকে ভারতের হাতে তুলে দেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে আমেরিকা।মুম্বই পুলিশের চার্জশিটের ফলে রানার প্রত্যার্পণ তরান্বিত হয়।গত বছর আগস্টে মার্কিন আদালত জানিয়েছিল, রানা ভারতের কাছে প্রত্যর্পণযোগ্য।আর এবার তাতেই সিলমোহর দিল শীর্ষ আদালত।
২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর দশ জঙ্গি হামলা চালায় মুম্বই শহরের একাধিক জায়গায়।মৃত্যু হয়েছিল ১৬৬ জনের।আহত হন অসংখ্য মানুষ।উল্লেখ্য, শৈশবের বন্ধু পাক জঙ্গি সংগঠন লস্করের অন্যতম সদস্য ডেভিড কোলম্যান হেডলি যে হামলার সঙ্গে যুক্ত, তা জানত রানা।রানা তার সংস্থার একটি শাখা খোলার অজুহাতে হেডলিকে ভারতীয় ভিসা পেতে সাহায্য করে।হেডলি সেই ভিসা ব্যবহার করে মুম্বই হামলার নজরদারি ও পরিকল্পনা করেছিল।হামলার জন্য হেডলি কী পরিকল্পনা নিয়েছিল, রানা সবই জানত।তদন্তকারীদের কাছে রানার জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে নেয় হেডলি।তারপরই ২০১১ সালে তদন্তকারীরা রানাকে ধরতে সক্ষম হয়।
