দিন দর্পণ, নদীয়াঃ প্রজাতন্ত্র দিবসের আগে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে তিনটি বাঙ্কারের খোঁজ পেল বিএসএফ।নদীয়ার কৃষ্ণগঞ্জের মাজদিয়ায় সীমান্তরক্ষী বাহিনী মাটি খুঁড়ে এই বাঙ্কারগুলির হদিশ পায়।শনিবার সকাল থেকে বাগানের ভিতর পাওয়া ওই বাঙ্কারগুলি মাটির ভিতর থেকে তোলার কাজ শুধু হয়েছে।গোটা এলাকা ঘিরে রেখেছে বিএসএফ।এলাকার বাসিন্দাদের নজর এড়িয়ে কীভাবে এই কাজ হল সেসব প্রশ্ন উঠে আসছে।
মাজদিয়া সীমান্ত লাগোয়া সুধীররঞ্জন লাহিড়ী মহাবিদ্যালয়ের সামনের এলাকায় হদিশ পাওয়া এই বাঙ্কার থেকে উদ্ধার হয় লক্ষ লক্ষ বোতল নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ।যা আন্তর্জাতিক চোরা চালানকারীরা লুকিয়ে রেখেছিল বলে প্রাথমিক অনুমান।বিএসএফ গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।এদিন সকালে ওই এলাকায় বিএসএফের বিশাল বাহিনী এসে পৌঁছায়।পে লোডার মেশিন এনে শুরু হয়েছে মাটি কাটার কাজ।তিনটি বাঙ্কার মাটির ভিতর থেকে তোলা হবে।যা পাচারকারীরা বাংলাদেশে পাচার করা উদ্দেশ্যে জোগাড় করেছিল।কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সীমান্তে নজরদারি আরও কড়াকড়ি হওয়ায় পাচার করতে না পেরে মাটির তলায় ওই বাঙ্কারের ভিতরে ভরে রেখেছিল বলে প্রাথমিক অনুমান।জায়গাটি ঘিরে দিয়েছে বিএসএফ।বাগানের ভিতর আরও তল্লাশি চালাচ্ছে তারা।
বেশ কয়েক মাস আগে ওই বাগানে দুটি কন্টেনার এনে রাখা হয়েছিল।পরে আর সেগুলির খোঁজ জানে না গ্রামবাসীরা।ঘন জঙ্গল থাকায় ওই এলাকার ভিতরে বাসিন্দারা যান না বলেও জানা গিয়েছে।কিন্তু মাটি খুঁড়ে ওই বাঙ্কার বানানো হল।সেটি মোটেও এক-দুদিনের কাজ নয়।২৫ ফুট লম্বা, ১৫ ফুট চওড়া দুটি কন্টেটার মাটির নিচে রাখা হয়।সেগুলিকে আবার লোহার পাত দিয়ে ভাগ করে তিনটি বাঙ্কার বানানো হয়েছিল।সেখানেই থরে থরে সাজানো ছিল ওই নিষিদ্ধ কফ সিরাপ।আটক হওয়া ওই বিপুল কফ সিরাপের বাজারমূল্য ১০ লক্ষ টাকার বেশি।
নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জের মাজদিয়ার ওই এলাকা থেকে মাত্র ২০ কিমি দূরে গেদের টুঙ্গি সীমান্তের কাঁটাতার।বাংলাদেশে চোরাচালানের জন্য কি এই পথ বেছে নেওয়া হয়েছে?সীমান্ত অবধি কি ওই এলাকায় সুড়ঙ্গও বানানো হয়েছে? সেই আশঙ্কার কথাও উড়িয়ে দিচ্ছে না বিএসএফ।বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে অস্থির হয়ে রয়েছে।ভারতের প্রতি বিদ্বেষমূলক বক্তব্যও রাখা হচ্ছে।সীমান্ত পেরিয়ে জঙ্গি ঢোকার আশঙ্কাও করা হচ্ছে।সেখানে এই বাঙ্কার কি নাশকতার কাজেও ব্যবহারের উদ্দেশ্য রয়েছে? সেসব প্রশ্নও সামনে আসছে।
