আর জি কর  কান্ডে সাজা আমৃত্যু কারাদন্ড


দিন দর্পণ, কলকাতাঃ আর জি কর তরুণী চিকিৎসক ধর্ষণ-খুন মামলায় ১৬৪ দিন পর সাজা ঘোষণা করা হলো।ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৬৪, ৬৬ এবং ১০৩(১); এই তিনটি ধারায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়।সিবিআই মৃত্যুদণ্ডের জন্য সওয়াল করলেও শেষমেশ আমৃত্যু কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন বিচারক অনির্বাণ দাস।সঙ্গে জরিমানা করা হয়েছে ৫০ হাজার টাকা।জরিমানার অর্থ দিতে না পারলে আরও পাঁচ মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয় শিয়ালদহ আদালত।এ ছাড়াও ধর্ষণের জন্য ৭ লক্ষ এবং হত্যার জন্য ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।বিচারক বলেন,রাষ্ট্রের দায়িত্ব নির্যাতিতার পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার।

সাজা ঘোষণার আগে এদিন কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে নিজেকে বারবার নির্দোষ বলে দাবি করে সঞ্জয়।ফের রুদ্রাক্ষ তত্ত্ব খাঁড়া করার চেষ্টা করে সে।কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে কেঁদেও ফেলে সঞ্জয়।প্রথমার্ধে ৩২ মিনিট শুনানির পর আদালত কক্ষ ফাঁকা করে দিতে বলেন বিচারক অনির্বাণ দাস।দুপুর ২.৪৫ মিনিট নাগাদ সাজা ঘোষণা করা হবে বলে জানান তিনি।তারপর দুপুর ২টো ৫১ মিনিটে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করা হয়।

উত্তরবঙ্গ সফরে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কদিন আগে আমরা তিনটে মামলায় ফাঁসি দিয়েছি।ফাঁসির সাজা ঘোষণা হয়েছে।এই মামলায় কী হয়েছে সবটা তো কাগজপত্র দেখিনি।আমরা তদন্ত করছিলাম।কিন্তু, সেটা তো আমাদের করতে দেওয়া হল না।সিবিআই যা করার করল।কী করেছে বলতে পারব না, তবে আমি এই সাজায় সন্তুষ্ট নই।ফাঁসি হলে মনকে স্বান্তনা দিতে পারতাম।আমাদের হাতে কেসটা থাকলে, অনেকদিন আগে ফাঁসির অর্ডার করিয়ে দিতে পারতাম।এই অপরাধের চরমতম শাস্তি হওয়া উচিত ছিল।সঞ্জয়কে ‘নরপিশাচ’ বলে উল্লেখ করলেন মুখ্যমন্ত্রী। নিহত তরুণী চিকিৎসকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে এই আর্থিক ক্ষতিপূরণ নিয়ে আমরা কী করব?রায় শুনে কান্নায় ভেঙে পড়লেন নির্যাতিতার বাবা-মা।আর্থিক সাহায্য নেবেন না বলে স্পষ্ট জানালেন তাঁরা।তাঁদের উদ্দেশে বিচারক বলেন, ‘‘আপনি মনে করবেন না টাকা দিয়ে ক্ষতিপূরণের চেষ্টা করা হচ্ছে।আমাকে এমন বলা হলে আমিও তাই করতাম।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *