দিন দর্পণ, উত্তর দিনাজপুরঃ শনিবার সকালে পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয় পলাতক অভিযুক্তের।গত বুধবার আদালত থেকে জেলে ফেরার সময় রাস্তায় শৌচালয় যাওয়ার নাম করে গোয়ালপোখরের পাঞ্জিপাড়ার কাছে পুলিশকে গুলি চালিয়ে পালিয়েছিল বিচারাধীন বন্দি সাজ্জাক আলম।তার গুলিতে জখম হয়েছিলেন দুই পুলিশ কর্মী, নীলকান্ত সরকার ও দেবেন বৈশ্য।জখম দুই পুলিশকর্মী এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।ওই ঘটনার পরেই সাজ্জাককে ধরার জন্য তৎপর হয় পুলিশ-প্রশাসন।তারই মধ্যে উত্তরবঙ্গে যান রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমারও।শনিবার সকালে জানা যায়, গোয়ালপোখর থানার সাহাপুর-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের শ্রীপুরে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পালানোর সময়ে ‘পুলিশি এনকাউন্টারে’ নিহত হন সাজ্জাক।
সাহাপুর সীমান্ত দিয়ে পালানোর চেষ্টা করছিলেন সাজ্জাক।এডিজি জাভেদ বলেন, সাজ্জাক আলমকে থামতে বলা হয়েছিল।পুলিশ দেখেই সে গুলি চালাতে শুরু করে।তিন-চার রাউন্ড গুলি চালায়।বাধ্য হয়ে পুলিশও গুলি চালিয়েছিল।পুলিশের গুলিতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছিলেন সাজ্জাক।তাঁর পিঠে, গলায় এবং পায়ে গুলি লেগেছিল।কিন্তু তখনও জীবিত ছিলেন তিনি।পুলিশকর্মীরাই সাজ্জাককে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন।সেখানে চিকিৎসক সাজ্জাককে মৃত ঘোষণা করেন।
গোয়ালপোখেরে পলাতক বিচারাধীন বন্দিকে জীবিত অবস্থায় ধরার জন্য সব ধরনের চেষ্টা করা হয়েছিল।কিন্তু যেভাবে পুলিশকে লক্ষ্য করে অভিযুক্ত গুলি চালাতে শুরু করেছিল তাতে এনকাউন্টার ছাড়া উপায় ছিল না।তবে পুরো ঘটনার তদন্ত হবে।যদি কারও গাফিলতি প্রমাণিত হয় পদক্ষেপ করা হবে।ডিজির হুঁশিয়ারির পরই অবশেষে পুলিশের কড়া পদক্ষেপ বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের।পলাতক বন্দির মৃত্যুর বিষয়ে সাংবাদিক বৈঠক থেকে জানালেন রাজ্য পুলিশের এডিজি আইনশৃঙ্খলা জাভেদ শামিম।এদিন এডিজি বলেন, অপারেশনে আমাদের আট জনের দক্ষ অফিসাররা ছিলেন।সব ধরনের চেষ্টাও করা হয়েছিল।ইতিমধ্যে মৃত বন্দির কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত করা অস্ত্র ফরেনসিক পরীক্ষা করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।একই সঙ্গে ডিজি স্পষ্ট করে দেন, অপরাধীদের রেয়াত করার প্রশ্নই নেই।দুষ্কৃতীরা যদি পুলিশের উপর একটি গুলি চালায়, পুলিশ তা হলে চারটি গুলি চালাবে।ডিজির ওই হুঁশিয়ারির পর এনকাউন্টারে সাজ্জাকের মৃত্যু স্বাভাবিক ভাবেই পুলিশ মহলে আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।
