প্রসুতি মৃত্যুতে বিষাক্ত স্যালাইনের সঙ্গে দায়ি অক্সিটোসিন


দিন দর্পণ, কলকাতাঃ মেদিনীপুরের হাসপাতালে বিষাক্ত স্যালাইনে অসুস্থ হওয়া তিন প্রসূতির অবস্থা এখনও সঙ্কটজনক।এই তিন প্রসুতি ছাড়াও আরও প্রসুতির রক্তে জমাট না বাঁধার কারণে অসুস্থ হতে দেখা যাচ্ছে।ঠিক মতো কাজ করছে না ফুসফুস-কিডনিও।১৮ বছরের কম বয়সি প্রসূতিদের মধ্যে ১৮ শতাংশ এবং প্রাপ্তবয়স্ক প্রসূতিদের মধ্যে ১২ শতাংশ কিডনি বিকল হয়ে মারা যাচ্ছেন।সুস্থ মা সুস্থ সন্তানের জন্ম দিচ্ছেন, কিন্তু তার পরেই আচমকা একাধিক অঙ্গ বিকল হয়ে মৃত্যু হচ্ছে তাঁর।প্রসূতিদের এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করা হল অক্সিটোসিনকে।শুধু মেদিনীপুর মেডিক্যালে নয়, অন্যান্য মেডিক্যাল কলেজেও এমন হতে দেখা গেছে।এরকম হওয়ার কারণ কী,তার উত্তর খুঁজতে গিয়ে সরকারি হাসপাতালে সরবরাহ হওয়া অক্সিটোসিনকেই অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন সরকারি স্ত্রীরোগ চিকিৎসকদের একটা বড় অংশ।এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য ভবনে সাড়ে পাঁচ পাতার রিপোর্ট জমা পড়েছে।

স্বাস্থ্য ভবনের তৈরি করে দেওয়া তদন্ত বোর্ডের প্রাথমিক রিপোর্টে বলা হয়েছিল রিঙ্গার ল্যাকটেট স্যালাইনের কারণে মেদিনীপুর মেডিক্যালে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে।বাকি তিনজনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক সেই কারণেই।কিন্তু ফাইনাল রিপোর্ট জমা পড়তেই সূত্রের খবর, বিষাক্ত স্যালাইনের দোসর অক্সিটোসিনও।এই অক্সিটোসিনের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলেই প্রসূতিদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে।স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগম অবশ্য বলেন, মাতৃমৃত্যু আমাদের কাছে সব সময়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।নিয়মিত এ বিষয়েû বৈঠক করা হয়।রাজ্যের একাধিক সরকারি হাসপাতালে অক্সিটোসিন নিয়ে বার বার সমস্যা হওয়ায় এখন একাধিক হাসপাতাল তা ব্যবহার করে না।রোগীর পরিবারকে বাইরের দোকান থেকে অন্য সংস্থার অক্সিটোসিন নিয়ে আসতে বলা হয়।জেলার একাধিক হাসপাতালের সঙ্গে কলকাতার দু’টি নামী মেডিক্যাল কলেজও এই অক্সিটোসিন রোগীর পরিবারকে বাইরের দোকান থেকে নিয়ে আসতে বলা হয়।প্রসব পরবর্তী রক্তক্ষরণ ঠেকাতে অক্সিটোসিন অত্যন্ত জরুরি ওষুধ।সিজারের ক্ষেত্রে সমস্ত প্রসূতিকে স্যালাইনে মিশিয়ে শিরায় অক্সিটোসিন দেওয়া হয়।স্বাভাবিক প্রসবে পেশিতে দেওয়া হয়।চিকিৎসকদেরএকাংশের বক্তব্য, অক্সিটোসিনের মান ঠিক না থাকলে লোহিত কণিকা নষ্ট হয়ে যেতে পারে, হিমোগ্লোবিন কমতে পারে, বিলিরুবিন বাড়তে পারে।স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাকও হতে পারে।

বেসরকারি হাসপাতালের স্ত্রী রোগ চিকিৎসক অভিনিবেশ চট্টোপাধ্যায় বলেন, অক্সিটোসিন সংরক্ষণ করার জন্য যে কোল্ড চেন বজায় রাখতে হয়, তা বহু ক্ষেত্রেই হয় না।তাতে অক্সিটোসিন নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে।নষ্ট হয়ে যাওয়া অক্সিটোসিন ব্যবহারের পরিণতি মারাত্মক হতে পারে।তাই অনেক জায়গায় এখন প্রসব পরবর্তী রক্তক্ষরণ ঠেকাতে কার্বেটোসিন ব্যবহার করা হয়।সরকারি স্তরে এ নিয়ে অবিলম্বে ভাবা দরকার।কেন কার্বেটোসিন নিয়ে ভাবা হয়নি? ডাক্তারদের বক্তব্য, ভাবার জন্য তো কর্তাদের আমাদের সঙ্গে কথা বলতে হবে।তাঁদের সেই সময় কই-প্রশান্তের জবাব, বিশেষজ্ঞ কমিটি এখনও কিছু জানায়নি।তাই আমাদের কিছুই করার নেই।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *