বিশ্বের সর্ববৃহৎ সমাবেশ মহাকুম্ভ


দিন দর্পণ, ৭জানুয়ারিঃ মহাকুম্ভ ঘিরেও আলাদা মাহাত্ম্য রয়েছে।২০২৫ সালের মহাকুম্ভ ঘিরে উৎসাহ বেড়েছে মানুষের মনে।কারণ আর কয়েকদিনে মধ্যেই আসছে মহাকুম্ভ।১৩ই জানুয়ারি থেকে ২৬শে ফেব্রুয়ারি এই মেলা চলবে।সনাতন সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের এই উৎসব গোটা বিশ্বের কৌতূহলের কারণ হয়ে উঠেছে।ইতিমধ্যে মহাকুম্ভ ওয়েবসাইটে ঢুকে মেলা সম্পর্কে খোঁজ নিচ্ছেন ১৮৩টি দেশের ৬২০০ শহরের ৩৩ লক্ষ মানুষ।

উত্তর প্রদেশের প্রয়াগে এই মেলা আয়োজিত হতে চলেছে।গঙ্গা, যমুনা, সরস্বতীর সঙ্গমস্থলে পালিত হয় মহাকুম্ভ।এই মহাকুম্ভের সময় এই সঙ্গমের জলে স্নান করলে পূণ্যপ্রাপ্তি হয় ও পাপ ধুয়ে যায় বলে মনে করা হয়।এই মহাকুম্ভের স্নানেই ফেরে মোক্ষ।অনেকেই এক কুম্ভের স্নানকে শাহি স্নান বলে সম্বোধন করেন।নদীর তীরে পালিত হয় নানান ধর্মীয় আচার।মহাকুম্ভকে রাজকীয়ভাবে সাজিয়ে তুলতে তৎপর উত্তরপ্রদেশ সরকারের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মহাকুম্ভকে ঐশ্বরিক ও মহত্তম করার অঙ্গীকার করেছেন।সেই মতোই ঝড়ের গতিতে কাজ এগোচ্ছে প্রয়াগরাজে ত্রিবেণীতে।ইতিমধ্যে সাজিয়ে তোলা হয়েছে ঘাট এবং রাস্তাগুলি। পুণ্যার্থীদের সুবিধার জন্য অসংখ্য অস্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হয়েছে।মেলার মাঠ আলোকিত ৬৭ হাজার বিদ্যুৎবাতির সৌজন্যে।

যোগী সরকারের সঙ্গে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে ভারতীয় রেল মন্ত্রক।ভারতীয় রেলের তরফে মহাকুম্ভের বিশেষ সাজিয়ে তোলা হয়েছে রেলস্টেশন গুলিকে।ভারতীয় রেলের উদ্যোগে ‘পেইন্ট মাই সিটি’নামক প্রচারের মাধ্যমে প্রয়াগরাজের সব স্টেশনগুলিতে লাগবে সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক ছোঁয়া।ভারতীয় রেলের জানা যাচ্ছে, মহাকুম্ভ উপলক্ষে প্রয়াগরাজ ডিভিশনের প্রতিটি স্টেশনের দেওয়ালে তুলে ধরা হবে ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের নানা দৃশ্যপট।হিন্দু পৌরাণিক কাহিনী এবং ভারতীয় ঐতিহ্যের নানান দিক থাকবে এই সব শিল্পকর্মে।উদাহরণস্বরূপ রামায়ণ, কৃষ্ণলীলা, ভগবান বুদ্ধ, ভগবান শিব, গঙ্গা আরতি এবং নারীর ক্ষমতায়নের মতো বিষয়গুলির পাশাপাশি প্রয়াগরাজের সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক নানা দৃশ্য দেখতে পাবেন পুণ্যার্থীরা।যে স্টেশনগুলিকে সাজিয়ে তোলা হবে তা হল, প্রয়াগরাজ জংশন, নৈনি জংশন, ফাফামাউ, প্রয়াগ, ঝুনসি স্টেশন, রামবাগ, ছেওকি, প্রয়াগরাজ সঙ্গম, সুবেদারগঞ্জ স্টেশন-সহ প্রয়াগরাজে অবস্থিত অন্যান্য স্টেশনগুলি।এরই সাথে থাকবে দেওয়ালে আঁকা ছবিগুলিতে থাকবে মুনি ঋষিদের কথা, গুরু-শিষ্য ঐতিহ্য, জ্ঞান এবং ত্যাগের গুরুত্ব, যা প্রয়াগরাজের আধ্যাত্মিক রূপকে আরও ব্যাপক পরিসরে তুলে ধরবে।

মহাকুম্ভ ২০২৫ উপলক্ষে আগত পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তার পাশাপাশি পরিষেবায় যাতে কোনও খামতি না থাকে তাঁর জন্য উঠে পড়ে লেগেছে সরকার।আনুমানিক ৪০ থেকে ৫০ কোটি মানুষ গত ৪৫ দিনে এখানে উপস্থিত হবেন বলে মনে করছে উত্তরপ্রদেশ প্রশাসন।দর্শনার্থীদের জন্য টয়লেট, তাবু-সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি রাখা হয়েছে নানা বিনোদনের ব্যবস্থাও।মহাকুম্ভে স্নানপর্বের সময় জল, স্থল ও আকাশ ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে।প্রাথমিক ভাবে প্রয়াগরাজ জংশন-সহ এই ডিভিশনের সমস্ত স্টেশনের সংস্কারে হাত লাগিয়েছে রেল।সংস্কারের মধ্যে যেমন রয়েছে সৌন্দর্যায়ন, তেমনই আছে যাত্রী স্বাচ্ছন্দে নানা ব্যবস্থা।দীর্ঘ সফরের যাত্রীদের ক্লান্তি কাটাতে উত্তর-মধ্য রেলের তরফে প্রয়াগরাজ জাংশনে গড়ে তোলা হয়েছে একটি অত্যাধুনিক গেমিং জোন।মহাকুম্ভ নিয়ে প্রস্তুতি তুঙ্গে।গোটা বিশ্ববাসীর এখন আকর্ষণের অন্যতম কারণ মহাকুম্ভ।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *