দিন দর্পণ, কলকাতাঃ দক্ষিণ কলকাতার ফুসফুস বলা হয়ে এই রবীন্দ্র সরোবরকে।এই সরোবরেই এবার জারি করা হল একাধিক নিষেধাজ্ঞা।নানা অভিযোগ মাঝেমধ্যেই উঠতে শুরু করেছিল সাধারণ মানুষের ইত্যাদি কাজকর্মের কারণে।লেকের জলাশয়ে নোংরা ফেলা, লেকের মধ্যেই প্লাস্টিক ফেলা, পোষ্যদের মলমূত্র ত্যাগ করানো থেকে শুরু করে পশু,পাখিদের যত্রতত্র খাবার খাওয়ানোর অভিযোগ রয়েছে।এছাড়া জানা যাচ্ছে, রবীন্দ্র সরোবরে আসা অনেকের অভিযোগ, চলাফেরার পথে নানা জায়গায় কুকুর,বিড়াল খাওয়ানো হয়।তার জেরে উচ্ছিষ্ট পড়ে থাকে।তার উপর দিয়ে হাঁটতে সমস্যা হয়।রবীন্দ্র সরোবরের ভিতর পশুদের খাওয়ানো পুরোপুরি বন্ধ করার দাবি তোলেন তাঁরা।এই সমস্ত কারণের ফলে সরোবরের পরিবেশ দূষণ থেকে শুরু করে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয় এলাকার সাধারণ নাগরিকদের।যাঁরা লেকে প্রাতঃভ্রমণ বা সান্ধ্যভ্রমণ করতে আসেন।এবার ফরমান জারি হয়েছে, রবীন্দ্র সরোবর লেকে যত্রতত্র পশুদেরকে আর খাবার দেওয়া যাবে না।এই নিয়ে এবার নিষেধাজ্ঞা জারি করল কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি।রবীন্দ্র সরোবরের প্রতিটি গেটে বড়ো করে ব্যানারে ছবি ও লেখা আছে পশুদের বাইরে খাবার দিতে হবে।ভিতরে পশুদের খাবার দেওয়া যাবে না।
কেএমডিএর এই সিদ্ধান্ত একদমই খুশি না পশুপ্রেমীরা।এমন সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন তাঁরা।তাঁদের মতে, পশুদের খাবার দেওয়ার কাজে বাধা দেওয়া অন্যায়।কেন চারটি জায়গায় খাওয়াতে পারা যাবে সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট জায়গা নেই কেন- তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন তাঁরা।পশুপ্রেমীদের দাবি, কোন কোন জায়গায় খাওয়ানো যাবে সেটা বোর্ডে উল্লেখ করে দিয়ে স্থানগুলি জানানো হয়নি।তাই তাঁদের আশঙ্কা, সঠিকভাবে খাবার না পেয়ে কুকুর উত্তেজিত হয়ে পড়তে পারে।কামড়েও দিতে পারে তারা।গত নভেম্বর মাসেই পথ কুকুরদের কোথায় খাওয়াতে হবে কী কী ব্যবস্থা মেনে চলতে হবে তা নিয়ে রাজ্যকে একাধিক নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট।সেই মতো নির্দেশ পেলেও সেই নির্দেশ যে মানা হচ্ছে না সে বিষয়ে একাধিক অভিযোগ এসেছে।
