চারবছর পর শুরু হল ‘ওর্য়াল্ড হেরিটেজ’ পৌষ মেলা


দিন দর্পণ, বীরভূমঃ ‘ওর্য়াল্ড হেরিটেজ’ পৌষ মেলা দীর্ঘ চার বছর পর আবারও শুরু হয়ে গেল।২০১৯-এর পর ২০২০ সালে কোভিডের কারণে এই মেলা বন্ধ রাখা হয়েছিল।এরপর বিশ্বভারতীর তৎকালীন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর সঙ্গে রাজ্য সরকারের সংঘাত চরমে পৌঁছায়।এর ফলে ২০২১, ২২ ও ২৩ সালে মেলার আয়োজন করেনি ট্রাস্ট ও বিশ্বভারতী।তবে এবার ফের পূর্বপল্লির মাঠে ফিরল পৌষমেলা ।সোমবার থেকে ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে পৌষমেলা।

সোমবার সকালে বৈতালিকের মাধ্যমে বোলপুরে সূচনা হল পৌষমেলার।উপস্থিত ছিলেন বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিনয়কুমার সোরেন, বীরভূমের জেলাশাসক বিধান রায়, জেলা পরিষদের সভাধিপতি অনুব্রত মণ্ডল। পুরনো ঐতিহ্য মেনে গৌর প্রাঙ্গণে ভোরবেলা বৈতালিক, সানাই, উপাসনার মাধ্যমে সূচনা হল ১৮১ তম পৌষ উৎসব। শান্তিনিকেতনের সমস্ত মানুষজন উপস্থিত ছিলেন এই অনুষ্ঠানে।পুরুষরা ধুতি,পাঞ্জাবি,শাল ও মেয়েরা সকলে লাল,সাদা শাড়িতে সেজে প্রথমে প্রণাম ও শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন গুরুদেবের উদ্দেশে।সারা দিন নানা  সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থাকবে।সন্ধ্যায় উদয়ন বাড়ি ও ছাতিমতলায় হবে আলোকসজ্জা।চার বছর পর পৌষমেলার আনন্দ উপভোগ করতে  ইতিমধ্যেই সেখানে হাজির হয়েছেন বহু পর্যটক।বাউল গান, নাচের পাশাপাশি মেলায় থাকবে শান্তিনিকেতন বোলপুরের আকর্ষণীয় হস্তশিল্পের সম্ভার।

১৮৪৩ সালে ৭ই পৌষ মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশের কাছে ব্রহ্মধর্মে দীক্ষিত হন।এরপরেই ব্রহ্মধর্মের প্রসার ও প্রচার বৃদ্ধি পায়।দীক্ষিত হওয়ার দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে ও ব্রহ্মধর্মের প্রসারের স্বার্থে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৪৫ সালে কলকাতার গোরিটির বাগানে উপাসনা, ব্রহ্ম মন্ত্রপাঠের ব্যবস্থা করেন।এটিই পৌষমেলার সূচনা বলে ধরা হয়।পরে ১৮৬২ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শান্তিনিকেতনে আশ্রম প্রতিষ্ঠার কথা ভাবতে শুরু করেন।ভাবনার দীর্ঘদিন বাদে ১৮৯১ সালে ব্রহ্মমন্দির বা উপাসনাগৃহ প্রতিষ্ঠিত হয়।এখান থেকেই শান্তিনিকেতনের পৌষ উৎসবের সূচনা।১৮৯৪ সালে এই উৎসবের পাশাপাশি মন্দির সংলগ্ন মাঠে শুরু হয় পৌষমেলা।যত সময় এগিয়েছে পৌষমেলার পরিধিও বেড়েছে।চার বছর পর মেলা আবারও শুরু হয়েছে।শান্তিনিকেতনে পর্যটকদের ভিড় উপছে পড়ছে।শান্তিনিকেতনের সব হোটেলের আগামী কয়েক দিনের জন্য সমস্ত রুম বুক হয়ে গিয়েছে।তাই অনেক পর্যটক কিছুটা হতাশায় পড়েছেন।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *