দিন দর্পণ, কলকাতাঃ মঙ্গলবার বাংলার বাড়ি প্রকল্পের টাকা বিতরণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে রাজ্য সরকার।১২ লক্ষ বঙ্গবাসীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর কাজ শুরু করল রাজ্য।মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্পের টাকা বিতরণ কর্মসূচী করা হয় নবান্নের সভাঘরে।২৪ ঘন্টা আগেই জেলায় জেলায় ট্রেজারে কিস্তির টাকা পাঠিয়েছে রাজ্য সরকার।উপভোক্তাদের জন্য ইউনিক আইডি তৈরি না করেই এই টাকা বিতরণের কাজ শুরু করেছে নবান্ন।চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া উপভোক্তাদের ‘মাস্টার রোল’ তৈরি করা হয়েছে।তার ভিত্তিতে ট্রেজারির মাধ্যমে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হবে।বিতরণ শুরুর পরেই গোটা প্রক্রিয়াটির উপর নজর রাখবে জেলা শাসক।
মূলত, এই আবাস যোজনার টাকা কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়ার কথা কিন্তু, তা না দেওয়ায় রাজ্য সরকার নিজস্ব কোষাগার থেকে টাকা দিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়িত করেছে।এদিন বেশ কয়েকজন উপভোক্তার হাতে ‘বাংলার বাড়ি’প্রকল্পের টাকা তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী।তবে নবান্ন এক্ষেত্রে অনেকটাই সতর্ক রয়েছে।যাতে একজনের টাকা কোনওভাবেই অন্যজনের অ্যাকাউন্টে না যায়।এমনকী এক ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে যেন দুবার টাকা না যায়, তাই এবার অতিসতর্কতার সাথে এগিয়েছে রাজ্য।বিডিওদেরই টাকা ছাড়তে উপভোক্তাদের নামের বিল ট্রেজারিতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে নবান্ন।একেবারে বিডিও-র নজরদারিতেই প্রকল্পের টাকা বিতরণের কাজ করতে হবে বলে দাবি সরকারের।ইতিমধ্যেই জেলাভিত্তিক উপভোক্তাদের হিসেব তৈরি করে জেলা বরাবর কয়েকশো কোটি টাকা পাঠানো হয়েছে।প্রথম কিস্তিতে এক একজনকে ৬০ হাজার টাকা করে দেওয়ার কথাই বরাদ্দ রয়েছে।এমনকি, দ্বিতীয় কিস্তিতেও প্রত্যেক উপভোক্তা ৪০ হাজার ও পরে আরও ২০ হাজার করে টাকা পাবেন রাজ্য সরকারের কাছ থেকে।বাংলার বাড়ি প্রকল্পের তালিকায় মোট ১২ লক্ষ উপভোক্তা রয়েছেন।এবং আরও অতিরিক্ত এক লক্ষ উপভোক্তাকে একই পরিমাণ টাকা দেওয়া হবে যাঁদের বাড়ি ভেঙেছে প্রাকৃতিক দুর্যোগে।সব মিলিয়ে এই দফায় রাজ্যের বাংলার বাড়ি প্রকল্পে বরাদ্দ করা হয়েছে প্রায় ৭২০০ কোটি টাকা।মোট ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকার মধ্যে প্রথম কিস্তিতে উপভোক্তা পাবেন ৬০ হাজার টাকা।তবে জঙ্গলমহলের কিছু এলাকা সহ দুর্গম অঞ্চলের উপভোক্তাদের ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা দেওয়া হবে।
