দিন দর্পণ, কোচবিহারঃ কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশানের উদ্যোগে বুধবার সকাল থেকে কোচবিহারকে আলাদা রাজ্য হিসাবে স্বীকৃতির দাবিতে রেল অবরোধ করা হয়েছে।কোচবিহারের জোড়াই রেল স্টেশানে আজ সকাল থেকে রেল অবোরধ শুরু হয়।প্রায় আট বছর পর আবার ‘রেল রোকো ’ আন্দোলনে নামল এই সংগঠন।কোচবিহারকে পৃথক রাজ্যের দাবিতে আগেই এই রেল অবরোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল গ্রেটার কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশন।এদিন সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে, তাদের দাবি সম্পর্কে ভারত সরকার যতক্ষণ না কোনও সিদ্ধান্ত জানাচ্ছে ততক্ষণ এই রেল অবরোধ চলবে।
এই অবোরধের কারণে একাধিক দুরপাল্লার ট্রেন বাতিল করা হয়েছে।বেশ কয়েকটি ট্রেনের রুট পরিবর্তন করা হয়েছে।সকাল থেকে উত্তর পূর্ব ভারতের সঙ্গে বাংলার রেল যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন।এনজিপি-গুয়াহাটি বন্দেভারত এক্সপ্রেস ট্রেন সহ রাজধানী এক্সপ্রেস ট্রেন বাতিল করা হয়েছে।এই অবরোধের কারণে প্রবল ভোগান্তির শিকার যাত্রীরা।তাঁদের কথা মাথায় রেখে বিভিন্ন স্টেশনে হেল্প ডেস্ক খোলা হয়েছে।
গ্রেটার কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বংশীবদন বর্মন বলেন, ১৯৪৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর চুক্তিতে যা বলা হয়েছিল, তা রক্ষা করেনি ভারত সরকার।২০১৬ সালে এ ভাবেই আলাদা রাজ্যের দাবি তুলে রেল অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেছিল গ্রেটার কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশন।পৃথক রাজ্যের দাবিতে নিউ কোচবিহার স্টেশনে অনির্দিষ্ট কালের জন্য অবরোধ শুরু হয়েছিল।প্রায় আশি ঘণ্টা ধরে অবরোধ চলার পরে অভিযান চালায় পুলিশ।তারপর কিছুক্ষণের মধ্যে পুলিশ সেই অবরোধ সরিয়ে দিয়েছিল।আট বছর পর সেই একই দাবি নিয়ে ফের অবরোধ কবে কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশন।সংবিধান অনুযায়ী কোচবিহার ‘গ ’ ক্যাটাগরির রাজ্য।কিন্তু কেন্দ্র এখনও তার মান্যতা দিচ্ছে না।বাংলা ও অসমের একেবারে সীমানায় অবস্থিত এই জোড়াই স্টেশন।ফলে রেল অবরোধের জেরে বাংলার সঙ্গে উত্তর পূর্ব ভারতের রেল যোগাযোগ পুরোপুরি থমকে গিয়েছে।ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন রেল ও জেলা প্রশাসনের কর্তারা।তাই কোচবিহারকে আলাদা রাজ্যের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত রেল অবরোধ চলবে।
